
মনজুরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টারঃ
ছাগলের চামড়া কিনে এবারও বিপাকে পড়েছেন নাটোরের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া কেনা দামের থেকেও কম দামে বিক্রি হচ্ছে নাটোরের চকবৈদ্যনাথ চামড়া মোকামে। বাধ্য হয়েই প্রতি পিস ছাগলের চামড়া ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। এতিম খানার সংগৃহীত ছাগলের কাঁচা চামড়া লবন দ্বারা সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও সাড়া নেই। সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচা চামড়ার মোকাম নাটোরের চকবৈদ্যনাথ বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে। মৌসুমি কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের কুরবানি ঈদে গরুর দাম তুলনামূলক বৃদ্ধি পাওয়ায় ছাগল কুরবানির সংখ্যা বেড়েছে। ফলে ছাগলের চামড়া বিগত বছরগুলোর তুলনায় ভালো দামে বিক্রি হবে, এমন আশা থেকে তারা ছাগলের চামড়া সংগ্রহ বাড়িয়েছেন। প্রতি পিস চামড়া বাসাবাড়ি থেকেই ২৫-৩০ টাকায় সংগ্রহ করেছেন। এ সময় চামড়া মোকাম পর্যন্ত পরিবহনে চামড়া প্রতি আরও ৫ থেকে ১০ টাকা খরচ বেড়েছে। অথচ নাটোর মোকামে প্রতি পিস চামড়া ১৫ থেকে ২০ টাকায় কিনছেন ব্যবসায়ী ও কমিশন এজেন্টরা। রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে ৭৫ পিস ছাগলের চামড়া এনেছেন আব্দুল আজিজ ও মাহফুজ। তারা বলেন, নাটোরের ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করলে পরিবহন খরচই উঠবে না। এখন চামড়া ফেলে দিতে হবে। চামড়া লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণ করাই লস।
মৌসুমি ব্যবসায়ী সুমন, আলাউদ্দিন ও রশিদ জানান, তারা ছাগলের চামড়া বাজারে আনার পর দাম দেখে হতাশ। চামড়া বিক্রি করবেন না ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন, এ নিয়ে তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।
অপরদিকে, গরুর চামড়া প্রতি পিস ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত কেনাবেঁচা হতে দেখা গেছে নাটোরের মোকামে। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সিন্ডিকেট করে এখানকার ব্যবসায়ীরা চামড়ার দাম হাজারের উপর তুলছেন না। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলহাজ্ব লুৎফর রহমান বলেন, প্রতি বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা না বুঝে চামড়া কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারা চামড়া পেলেই কিনে নেন। কিন্তু সে চামড়ার মান, আকার ও লবণ দ্বারা সংরক্ষণের মাত্রা অনুযায়ী আমরা চামড়া কিনে থাকি। কাঁচা চামড়া লবণ দ্বারা আরও দুই থেকে তিন দিন আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। সে অনুযায়ী আমরা ন্যায্য দামেই চামড়া ক্রয় করছি।
উল্লেখ্য, চলতি বছর গরু, ছাগল ও মহিষ মিলিয়ে ৫০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপ।
Leave a Reply