মোঃ মামুন হোসাইন।স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীতে দারুল কোরআন মাদরাসার ১ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারে অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পিটিশন মামলা নং- ৩৫১/২০২৪। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজাহারভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভিকটিম শিশুর বাবা জানান, তার ৮ বছরের শিশু পটুয়াখালী জেলা শহরের শের-ই- বাংলা সড়কস্থ দারুল কুরআন মাদরাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে আসছিল। ঘটনার দিন ৯/৬/২০২৪ ইং তারিখ বেলা ১১ টার সময় মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মাদরাসার ৩য় তলায় তার রুমে নিয়ে তার পুরুষাঙ্গে তেল মেখে শিশু ছাত্রকে জোড়পূর্বক বলাৎকার (যৌন কামনা চরিতার্থ) করেন। এ সময় সে কান্নাকাটি করলে তাকে বেধড়ক মারধর করে মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে মাদরাসায় আটকে রাখে। পরে সে অসুস্থ হলেও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আহম্মদ কবির ও সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান কোনো প্রকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি এবং অভিভাবককে বিষয়টি জানায়নি। উল্টো শিশুটিকে কাউকে না বলার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। শিশুটি কোরবানির ছুটিতে মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের খাসেরহাট বাড়িতে গেলে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটি ব্যাথায় ছটফট করছিল। এ সময় শিশুটির মা ব্যাথার কারণ জানতে চাইলে সে তার মাকে বিস্তারিত জানায়। মা শিশুটিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। শিশু ছেলে হাসপাতালে ভর্তির খবর শুনে ছাত্রের বাবা কাঁচামালের ব্যবসায়ী ফরিদপুর থেকে এসে ঘটনা অবহিত হয়ে উক্ত আদালতে ঘটনাটির সাথে জড়িত সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে (৩৫) ও ঘটনাটি গোপন রাখা ও শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো প্রধান শিক্ষক আহম্মদ কবির (৩৫) এর বিরুদ্ধে পিটিশন মামলা করেন।
বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজাহারভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন জানান, মামলাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উক্ত মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. জসিম জানান, প্রধান শিক্ষক আহম্মদ কবির স্যার ও সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান কয়েকদিন ধরে মাদরাসায় আসেন না। আহত শিশু শিক্ষার্থী বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত আছে বলে বাবা জানান। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবী করেন।