
স্টাফ রিপোর্টার :
মাদারগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর আলম দূর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুঁলে কলাগাছ হয়ে উঠেছে।
তার স্থায়ী নিবাস ছিল উপজেলার সুখনগরী গ্রামে। নদী ভাঙ্গনের পরে নিজ গ্রাম ছেড়ে সে উপজেলার পালপাড়া গ্রামে আশ্রয় নেয়। পালপাড়ায় থাকাকালে সে দীর্ঘদিন বাড়িতে বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করাসহ বাজারের দোকানপাটেও গোমস্তাগিরি করতো। তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফরমায়েসও খাটতো।
জানা যায়, সে ১২ বছর আগে
মাদারগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রারের রান্নাবান্নার কাজ করতে গিয়ে সেখানে নৈশপ্রহরী হিসেবে মাস্টার রোলের একটা চাকুরী বাগিয়ে নেয়। আর এখানে থেকেই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। নানা ধরনের দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে যায় জাহাঙ্গীর। আরও জানা যায়, তার বেতন মাত্র ১৭শ টাকা। এদিকে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে মাষ্টার রোলে যোগ দিয়েই সে নেমে পড়ে সকল অবৈধ কার্যকলাপে। ধীরে ধীরে অফিসের সব কাজ হাতিয়ে নেয় সে। জাহাঙ্গীর আলম একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করে। জমি রেজিষ্ট্রির বিভিন্ন কাজ যেমন, দলিল লেখা, দলিল রেজিষ্ট্রেশন, নকল উত্তোলন, সব ধরনের কাজ তাকে ছাড়া হয়না এই উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। অফিসের লোকজন তাকে দ্বিতীয় সাবরেজিষ্ট্রার বলেও উপাধি দিয়েছে। এলাকার প্রভাবশালী ছেলেদের নকল নবিশের চাকুরী দিয়ে নিজের হাতকেও শক্তিশালী করেছে সে। এসবের মাধ্যমে দিন দিন সম্পদের পরিমাণও বাড়তে থাকে তার। নিজ নামে, স্ত্রীর নামে এবং বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের নামে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছে এই দুনীতিবাজ জাহাঙ্গীর। উপজেলা কমপ্লেক্স এর কাছে পাঁচতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করেছে, পালপাড়ায় একটি দোতলা বাড়িসহ নিজ গ্রামে একাধিক পাকা বাড়িঘর করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে।
এসব বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এসব বিষয়ে নাক গলাতে বারণ করে। মাদারগঞ্জের
বর্তমান সাবরেজিষ্ট্রারও জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজী হননি।
Leave a Reply