
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির (বাজামসস) সম্পত্তি লুটের চেষ্টায় মেতেছে আওয়ামী লীগের দুই দোসর আনোয়ার হোসেন ও শামসুল আলম। এই দুই দোসর বিগত ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিতর্কিত ভোটে সংগঠনটিতে নেতৃত্বে আসেন। তখন থেকে তারা বাজামসসের সম্পত্তি লুন্ঠনে সক্রিয় হয়। এখন আবার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বেকায়দায় ফেলে চলমান কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
জানা যায়, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের পোষ্য জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি দুর্নীতিবাজ শামসুল আলম। তিনি সমিতির অর্থ লুটের মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। সমবায় অধিদপ্তরে জমা হওয়া এক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ কুলিয়ারচরে সমিতির দশ কোটি টাকার জমি হাত বদলের মাধ্যমে এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ঢাকা কেরানীগঞ্জের বরফকলের ১০ লাখ টাকার মালামাল বিনা টেন্ডারে বিক্রি করে তা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম নতুন বাজারে দুটো জমির ভাড়ার ৬০ লাখ টাকা সমিতিতে জমা না দিয়ে নিজেদের পকেটে পুরেন শামসুল, আনোয়ার ও কাউন্সিলর পুলক।
এদিকে আওয়ামী দোসর দালাল আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম. নাসির, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পুলক খস্তগীর, মহানগর মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি বাবুল সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তি জীবনে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। মৎস্যজীবীদের পূনর্বাসনের জন্য ২০০০ সালে সমবায় অধিদপ্তর যে ৬০০ ট্রলার বিতরণ করেছিল সেখানে দুর্নীতির সঙ্গে সে সরাসরি জড়িত ছিল। বিগত সরকারের ১৫ বছরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। আনোয়ার জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির কাছে ঋণগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও গত তিন বছর শামসুল আলমের কমিটিতে সদস্য ছিলেন। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার বদলের পর আনোয়ার নিজেকে মৎস্যজীবী দলের পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। তাছাড়া চট্টগ্রামের নতুন ফিসারিজ ঘাটে বর্তমানে আনোয়ারের দখলে নামে-বেনামে এখনো সমিতির চারটি দোকান রয়েছে। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির বিদ্যুতের মিটার ভাড়া দিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। তাছাড়া সে প্রকৃত মৎস্যজীবী না হয়েও আনোয়ারা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি নামে নিয়মিত সার্টিফিকেট বিক্রি করছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় সমিতির লোকজনকে তিনি লাঠিয়াল বাহিনীর ভয় দেখান।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জয়দেব বর্মন বলেন, ‘দোসর আনোয়ার হোসেন ও শামসুল আলম সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। চলমান নির্বাচন কার্যক্রম বানচাল করে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন বলেন, ‘শামসুল আলমের নির্দেশনায় আনোয়ার দালাল বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সামনে মব সৃষ্টি করে অফিসে বিভিন্ন নামফলক ভাঙচুর করে এবং সদস্যদের জীবন নাশের হুমকি দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দুই দোসর আগেও সমিতির সম্পত্তি লুট করেছে। আবার সম্পত্তি লুটের পায়তারা করছে।’
Leave a Reply