পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি মোঃ ফেরদৌস মোল্লাহ
পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বেসরকারি ফলাফলে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী শামীম বিন সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৮৮।
নির্বাচনের শুরুতে কাউখালী ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় জামায়াত প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, প্রথম দুই উপজেলার ফলাফলে শামীম বিন সাঈদী প্রায় ২৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। এতে জামায়াত শিবিরে উল্লাস দেখা দেয়।
তবে সবচেয়ে বেশি ভোটার অধ্যুষিত নেছারাবাদ উপজেলার ফলাফল প্রকাশ শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। উপজেলার ৭৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোট পড়ায় বিএনপি প্রার্থী দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যান। নেছারাবাদ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ জন। এই উপজেলার ফলাফলই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর-২ আসনের ১৬৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৯ হাজার ২৮৮ জন। দিনভর শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ফলাফল ঘোষণার পর নেছারাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। বিজয়ী প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এ বিজয় নেছারাবাদসহ পুরো আসনের মানুষের। আমি সবার প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাব।”
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী শামীম বিন সাঈদী ফলাফল মেনে নিয়ে কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।