কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের চেতনা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই, ফলে নতুন প্রজন্ম সরাসরি ইতিহাস ও ত্যাগের সেই মহান শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে। শহীদ মিনার শুধু ফুল দেওয়ার স্থান নয়; এটি বাঙালির আত্মত্যাগ, অধিকার আদায় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক স্কুল-কলেজে এখনো স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবে এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা সহজ হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা গড়ে উঠবে।
অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকদের দাবি, শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করা হলে ভাষা আন্দোলনের মহান আদর্শ আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সচেতন মহল দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষাঙ্গনে শহীদ মিনার নির্মাণ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম, ভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং জাতীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করাতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ আজ সময়ের দাবি।
লেখক:
মাহাবুব কাউসার
উন্নয়নকর্মী।