নিজস্ব প্রতিবেদক,
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোঃ কিরন মিয়া ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে মোসাঃ আল জেরিয়া বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খিরাটি (পূর্ব পাড়া) এলাকার বাসিন্দা মোঃ কিরন মিয়ার পরিবারের সাথে প্রতিবেশী মোঃ কামাল হোসেন ও জামাল উদ্দিনদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। গত ৫ মার্চ সকালে বিবাদীরা গোপনে বিষ প্রয়োগ করে কিরন মিয়ার ১০-১১টি মুরগি মেরে ফেলে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ। পরদিন ৬ মার্চ দুপুর ২টার দিকে বিবাদী কামাল হোসেন, জামাল উদ্দিন, ইকবাল হোসেন ও শামীমা দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে কিরন মিয়ার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে শিল্পী বেগমকে মারধর শুরু করে। ১নং বিবাদী কামাল হোসেন লোহার রড দিয়ে আঘাত করে শিল্পী বেগমের বাম হাতের হাড় ভেঙে দেয় এবং জামাল উদ্দিনের ঘুষিতে তার চোখ মারাত্মক জখম হয়। এ সময় স্ত্রী ও ঘর বাঁচাতে স্বামী কিরন মিয়া এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বাদী মোসাম্মৎ আল জেরিয়া বলেন, "তারা পরিকল্পনা করে আমার বাবা-মাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। প্রথমে আমাদের গৃহপালিত মুরগিগুলো বিষ দিয়ে মেরে ফেলে, আর পরে আমার বাবা-মায়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। আমি এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই।"কাপাসিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।