ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে একটি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে হরিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ১৩ মার্চ বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেদনীসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। নিয়োগ বোর্ডে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি হঠাৎ করে ইউএনও’র কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে পরীক্ষার নথিপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বাধা দিলে হামলাকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা নিয়োগ পরীক্ষার রেজুলেশন খাতা, নোটিশ খাতা, ফলাফল শিট, মৌখিক পরীক্ষার স্বাক্ষর শিট, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং জনবল কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে নিয়োগ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে পড়ে। ঘটনার পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি এবং এক নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দীন, মো. মোকলেসুর রহমান, মো. এরফান আলী, মো. ফারুক, মো. মাসুদ রানা, মো. উজ্জল, মো. আসিফ, মো. মনিরুজ্জামান, কাদীর কম্পিউটার এবং মো. শরিফ। এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় বাধা দিতে গেলে মোছা. মোতাহারা পারভীন নামে এক নারী শিক্ষককে টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হরিপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শরীফুল ইসলাম বলেন, “ছিনিয়ে নেওয়া সরকারি নথিপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।