তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুর, টুকেরগাঁও, গোবিন্দপুর ও সংরামপুর—এই চারটি গ্রামে প্রায় ৪০০০ থেকে ৪৫০০ মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এসব এলাকার সাধারন বাসিন্দারা।নদীর উপরে একমাত্র বাসের সেতুটি এখন মরন ফাদে পরিনত হয়েছে। এযেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রসুলপুর গ্রাম থেকে জয়নাল আবেদীন কলেজ পর্যন্ত সড়কটি এই অঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদর, অফিস-আদালতসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা ব্যবহার করে জয়নাল আবেদীন কলেজ, বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ এবং উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে থাকেন।
কিন্তু টুকেরগাঁও (শ্রী শ্রী কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকা) ও টাকাটুকিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে বৌলাই নদীর সাখা থাকায় যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। নদীর উপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে কয়েক বছর ধরে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছেন।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সময়ের ব্যবধানে বাঁশের এই সাঁকোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে, ফলে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষ চলাচলের সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতে একাধিকবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সেতু বিভাগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও আশ্বাস ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাঁশের সাঁকো দিয়ে আর কতদিন চলাচল করবো? একটি পাকা সেতু হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।”
এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা কামরুজ্জামান কামরুলের কাছে দাবী করে বলেন টুকেরগাও শ্রী শ্রী কালী মন্দির ও টাকাটুকিয়া মধ্যবর্তী স্থানে দ্রুত বৌলাই নদীর উপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
তাদের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব ইউনুস আলী বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলে এলাকার সাধারন জনগন তাদের নিজ উদ্যোগে বাঁশের ছাটাই নির্মান করে থাকেন। আমরা অতিতে এই এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবী করে আসলেও তা পূরণ হয়নি।বর্তমান সরকারের নিকট আমরা দাবী জানাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীটির উপর ব্রীজ নির্মাণ করতে পারলে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে।