তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে ইফতার করে বিল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের জেরে চা–কপি হাউজের মালিক ও তার ছোট ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে সন্ত্রাসী শিকদার বাহীনি। হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুর করে টাকা ও মোবাইল লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে বাজারের ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছেন।
স্থানীয় ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাদাঘাট বাজারের এস কে স্বাধীন চা ও কপি হাউজে ইছবপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সামছুল হক সিকদারের ভাতিজা সুফিয়ান ও তার বন্ধুরা ইফতার করেন। ইফতারের বিল দেওয়া নিয়ে দোকান মালিক আকাশের (২৪) সঙ্গে সুফিয়ানের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিটিয়ে দিলেও ঘণ্টাখানেক পর সুফিয়ান তার চাচার (৪৮) নেতৃত্বে ৪০–৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে দোকানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা আকাশ ও তার ছোট ভাই লাদেনকে (২০) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় প্রতিবাদ করতে এলে পাশের দোকানদার আজিদ, জামাল, সালমানকেও কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসী বাহীনি।
পরে দোকান ভাঙচুর করে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। দোকানে থাকা ক্যাশে থাকা বেশ কিছু টাকা ও কয়েকটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
আহত আকাশ ও লাদেনকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে বাদাঘাট বাজারের মেইন রোডের রেন্টি গাছতলায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে ব্যবসায়ীরা। তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে শফিকুল ডাক্তার, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ব্যবসায়ী মানিক মিয়া ও হানিফ মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ‘হামলার পরও হামলাকারীরা বাজারে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে চাই। কেউ যাতে গোষ্ঠীর প্রভাবে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করতে না পারে, সে জন্য দ্রুত সিকদারসহ সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’