ওসমান গনি,গজারিয়া প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে জবাই করা ১৩টি ঘোড়া ফেলে পালিয়েছে একটি অবৈধ মাংস ব্যবসায়ী চক্র।
গজারিয়া উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ঘোড়াগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবন্ত ঘোড়াও উদ্ধার করে স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ধারণা উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো থেকে অন্তত ৩০ মণ মাংস পাওয়ার কথা ছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, গত প্রায় ছয় মাস ধরে এই এলাকায় রহস্যজনক কর্মকাণ্ড চলছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী ওত পেতে ছিলেন। বুধবার ভোরে তারা হাতেনাতে চক্রটিকে ধরে ফেলেন। তবে তিতাস ও রাজিব নামে দুই অভিযুক্তসহ চক্রের সদস্যরা স্থানীয়দের সামনে দিয়েই পালিয়ে যায়।
অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন জানান, প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে এই পরিত্যক্ত ঘরের সামনে গাড়ি আসত। সকালে সেখানে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। পরে জানা যায় চক্রটি মূলত ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বস্তায় ভরে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। প্রমাণ নষ্ট করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি গর্ত করে পুঁতে ফেলত।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ উপস্থিত হবার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।’
এদিকে এই চক্রের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।