ওসমান গনি গজারিয়া প্রতিনিধিঃ
মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া উপজেলায় চিহ্নিত অবৈধ তেল চোরাকারবারি ও নৌ-ডাকাত হিসেবে অভিযুক্ত মাসুম গংয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
হোসেন্দী ইউনিয়নের বাটিবলাকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদী এলাকায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে ওই চক্র।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য মাসুম গং স্থানীয়দের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের এসব কার্যকলাপে এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
হোসেন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জিহান খান লিখন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাসুম গং মেঘনা নদীতে ডাকাতি করে আসছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে বাটিবলাকীসহ আশপাশের এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং গজারিয়া থানার ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম খান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের অত্যাচারের শিকার। প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।”
আসান ব্যাপারি অভিযোগ করে বলেন, “রাতের আঁধারে তারা অবৈধ তেল ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে কেউ কথা বললেই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।”
ভুক্তভোগী জাহানারা আক্তার অভিযোগ করেন, “আমার স্বামী জসিম উদ্দিনকে ঘিরে আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।”
বাচ্চু ব্যাপারি বলেন, “এলাকায় তারা এমন এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে কেউ নিরাপদ বোধ করছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাসুম। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “গৃহপালিত পশু নিয়ে আমার পরিবারের সঙ্গে এলাকাবাসীর সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।