নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা-এ একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনা ধামাচাপা ভিন্নখ্যাতে প্রভাবিত অপচেষ্টা। এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৪মে (রবিবার) অভিযোগকারীদের ঘটনা ও সত্যতায় স্থানীয় থানা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থায় প্রশাসন সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে বলে জানান।
শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলার নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত এক মিনিট যোগ করা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খেলা শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও সেই বিরোধের জেরে সন্ধ্যায় আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় জামাল হোসেন (৩৯) ও তার ছোট ভাই কামাল হোসেন (৩২) গুরুতর আহত হন। তাদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠান।
এ ঘটনায় বিলকিস বেগম নামের এক নারী মুরাদনগর থানায় চারজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল (২০), সোহেল (২২), শফিক (৪২) ও রুবেল (৩২)।
অভিযোগে বলা হয়, শফিক ও রুবেল প্রথমে জামাল হোসেনকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। পরে জুয়েল ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে কামাল হোসেনের মাথায় সোহেল গ্যাস পাইপ দিয়ে আঘাত করেন। হামলাকারীরা দা, গ্যাস পাইপ ও লোহার রড ব্যবহার করে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শফিক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি ও তার স্ত্রী (ইউপি সদস্য রোজিনা) পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বরং তাদের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন এবং তারাও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
আহত জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, তারা নিরস্ত্র ছিলেন এবং শফিক প্রভাব খাটিয়ে তার ভাইদের উসকানি দেন। কামাল হোসেনও বলেন, হামলাটি ছিল অতর্কিত এবং পরিকল্পিত।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।