ওসমান গনি গজারিয়া প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছে অভিযুক্ত কোম্পানি।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কোম্পানিটি বাঁধ অপসারণে উদ্যোগ নেয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বাউশিয়া বড়কান্দী এলাকায় মেঘনা নদীর সংযোগ গাদি কাটা খালের ওপর নির্মিত মাটির বাঁধ এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে অপসারণ করতে দেখা যায় কোম্পানির শ্রমিকদের। এ সময় খালের দুই পাশে ফেলে রাখা মাটির স্তূপ সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার কাজ চলতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত থাকায় আশপাশের কৃষিজমি ও গ্রামে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, খালটি এলাকার কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমপি সাহেব আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।
আরেক বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন ধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। খাল দখল ও পানি প্রবাহ বন্ধ হলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ে। এখন বাঁধ সরানোয় পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।
সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আলী আহম্মদ জানান, আমরা স্থানীয়ভাবে খালটি দখল বা স্থায়ীভাবে বাঁধ দেইনি। শ্রমিকদের চলাচলের সুবিধার জন্য সাময়িকভাবে একটি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেটি অপসারণ করা হচ্ছে। সেখানে আমরা একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি নজরদারিতে আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, খাল, কৃষিজমি কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কেউ অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।