হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা টাওয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী (৭২) আর নেই। গত সোমবার (১২ মে) রাতে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানা যায়, টেপরী রাণী ছিলেন বলিদ্বারা গ্রামের মৃত মধুদাস রায়ের মেয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ চলাকালে রাণীশংকৈল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনীর অভিযানের সময় তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।

স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্ভ্রম বিসর্জন দেওয়া এই নারী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব আত্মত্যাগের প্রতীক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় সমাজের অবহেলা ও কষ্ট বয়ে বেড়ালেও তিনি মাথা নত করেননি। তাঁর ছেলে সুধীর রায় (৫০) একজন যুদ্ধশিশু হিসেবে পরিচিত। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত টেপরী রাণী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বেদনা বয়ে নিয়ে গেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় তাঁর নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডি আবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে স্থানীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, “জাতির শ্রেষ্ঠ এই সাহসী নারী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে।”স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হলেও টেপরী রাণী ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও সংগ্রামী একজন নারী। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।