মোহাম্মদ মাসুদ
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসী অপরাধ কার্যক্রমে ব্যাপক গুঞ্জন কৌতূহল শীর্ষ আলোচিত সমালোচিত দেশজুড়ে । বর্তমান সরকারের সফলতার মধ্যে অন্যতম কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম অপরাধীদের অভয়ারণ্য দমনের চ্যালেঞ্জিং সত্বেও সফল অভিযানে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক আলোচনায় প্রশংসিত ও শীর্ষ আলোচিত হয়েছিল গত ছয় মাস আগে। সন্ত্রাস অপরাধমুক্ত জঙ্গল সলিমপুর ছিল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। যা চট্টগ্রামসহ সারা দেশজুড়ে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শীর্ষ আলোচিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। সকল শ্রেণী পেশার রাজনৈতিক মহল ও সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে। ব্যাপক প্রচারিত হয় গণমাধ্যম ও সকল ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও প্রিন্ট। পত্রিকায়।
নানা আলোচনা সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলেন জঙ্গলপুরে। জঙ্গল সনিপুর নিয়ে তিনি অবস্থানরত এলাকাবাসীর ভবিষ্যৎ বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে গত ১৭ বছরে দুর্বিত্তয়ানের রাজনীতি রাষ্ট্রের ভিতর রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। রাজনীতি রাজনীতির দূরবীত্তায়ন তার নমুনা জঙ্গল। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জনগণকে সাথে নিয়ে দেশে 'আইনের শাসন' প্রতিষ্ঠা করতে মন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী আজ ৩১মে ( রবিবার) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি জানান।
গত ৯ জানুয়ারি যত বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাস দখল মুক্ত করা হয় জঙ্গল সলিমপুর। নতুন সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জঙ্গল সুনিলপুর সফলতা অর্জন হয়নি তার অন্যতম বিশেষ কারণ প্রশাসনের ব্যর্থতা ও তথ্য ফাঁস।
প্রশাসনের ক্যাম্প ভেঙ্গে দেওয়ার দু:সাহস কোথায় থেকে পায়? জমি দখলের সাথে কারা জড়িত? সন্ত্রাস চাঁদাবাজি জুয়া মাদক দুর্নীতি।সকল বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে সমন্বয়ের সভা সার্কিট হাউসে আলোচনা হবে। সেখানে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জঙ্গল সলিমপুরের পরিকল্পিত মাস্টার প্ল্যান এর মধ্যে এরমধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য সফলতা ও নানা বিষয়ে কারণ সার্কিট হাউজে বিভাগীয় প্রধানদের প্রধানদের উপস্থিত সমন্বয় বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের 'দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র' গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল, যার একটি প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। কিছু ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুলি বর্ষণ এবং চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটার পর সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। অপরাধীদের অবদমন করতে গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন পাহারা বসিয়ে সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে থাকা ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা জনগণের সরকার। জনগণকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে যারা এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাঁদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। প্রকৃত বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।" তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত যেকোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশাসনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
জঙ্গল সলিমপুরে রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সাথে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক রোড নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র পর্যালোচনা করে এই অঞ্চলে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ চলছে। এছাড়া, বায়েজিদ লিংকের আশেপাশে খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকা থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করা হবে।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট মহল ও জন সাধারণের মনে প্রশ্ন জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী ও অপরাধ চক্রের নেপথ্যে আড়ালে রয়েছে পূর্ব পরিকল্পিত সুদীর্ঘ পরিকল্পনা। যাদের অপক্ষমতা রাজনৈতিক ছত্রছায়া অন্যায় অপরাধের স্বর্গরাজ্য রাষ্ট্র গড়ে তোলায় প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
অস্থায়ী যৌথ বাহিনীর একাধিক ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব স্থায়ী প্রস্তুতকৃত প্রায় উদ্বোধনের মুহূর্তে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প ভেঙে দেওয়ার দুঃসাহসী সন্ত্রাসীদের অপরাধচক্রের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের ভয়াবহতা কোনভাবেই কাম্য নয়। সারা বাংলাদেশে আবারো রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র জঙ্গল সলমপুর শীর্ষ আলোচিত সমালোচনা ঝড় উঠে। কৌতূহল সর্বস্তরের সর্বমহলে।