মোঃ জাকির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার কোম্পানিগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাসে লাগা ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে সাহসী ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে আলোচিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুলিশ কনস্টেবল হাসান আহমেদকে তার নিজ উপজেলা জুড়ীতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টায় জুড়ী উপজেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও লন্ডনপ্রবাসী সৈয়দ জায়েদুল ইসলামের উদ্যোগে এবং সৈয়দ সিরাজ আলেয়া ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ফাউন্ডেশনের প্রধান পরিচালক ও বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আল আমিন তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুড়ী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ তারা মিয়া।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মাসুম রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, জুড়ী মানবিক সোসাইটির প্রধান মাওলানা কামরুল ইসলাম এবং জুড়ী উপজেলা বাস-ট্রাক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম। এছাড়াও ফাউন্ডেশনের পরিচালকবৃন্দ ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মাসুম রেজা বলেন, “হাসান আহমেদের সাহসিকতার ভিডিও দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। সাধারণত আগুন লাগলে মানুষ নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়। কারণ যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। কিন্তু হাসান নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এসেছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে একটি জনপদকে রক্ষা করেছে। তার এই বীরত্বপূর্ণ কাজ জুড়ীবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।”
বক্তারা কনস্টেবল হাসান আহমেদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত করার দাবি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও তার এই অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক সৈয়দ সিরাজ আলেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ জায়েদুল ইসলাম বলেন, “প্রবাসে বসে দেশের ভালো কোনো সংবাদ শুনলে আমরা আনন্দিত হই। হাসান আহমেদ আমার জন্মভূমি জুড়ীর সন্তান। তার সাহসিকতা আমাকে গর্বিত করেছে। সমাজে ভালো কাজের স্বীকৃতি দিলে অন্যরাও উৎসাহিত হবে—এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ।”
উল্লেখ্য, গত ২২ মে বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লা জেলার কোম্পানিগঞ্জ বাজারে একটি মিনি বাসে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের দোকানপাটেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ সময় উপস্থিত অধিকাংশ মানুষ ঘটনা ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল হাসান আহমেদ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার সাহসী পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজনও এগিয়ে আসেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কনস্টেবল হাসান আহমেদের সাহসিকতা দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়।
কনস্টেবল হাসান আহমেদ বর্তমানে ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, সিলেটে কর্মরত রয়েছেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেন।