মোহাম্মদ মাসুদ
দেশে ঋণখেলাপির অভিযোগে বিচারক ইতিহাসের দৃষ্টান্ত, বিজয়ী প্রার্থিতা বাতিলে চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত এমপি আসলাম চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া ও নেতাকর্মীদের প্রতিসীতাকুন্ডে সড়ক অবরোধে প্রতিক্রিয়া না দেখানো, সাধারণ জনগণকে শান্ত ও ধৈর্য্যশীল উদাত্তের আহবান।
তার অনুসারী সমর্থকরা প্রার্থিতা বাতিলের রায় ঘিরে মহাসড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তি সকল আন্ত জেলা পরিবহন। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় ভাবমূর্তি। বিশেষ করে বিপাকে বিমানবন্দরগামী প্রবাসীরা অ্যাম্বুলেন্স ও বিমানবন্দরগামী গাড়ি চলাচলের সুযোগ রাখার আকুতি। ক্ষয়ক্ষতির শিকার জরুরী সেবা সরবরাহকারী ও কাঁচা পণ্যবাহী মকল পরিবহন।
বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে অবরোধের অভিযোগ উঠেছে তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী বহু প্রবাসী পথে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের স্বজনেরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঋণখেলাপিসংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। আসনটির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
বর্তমানে দেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সরকারি মন্ত্রিপরিষদের তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের কর্মসূচিতে দেশের প্রধান মহাসড়কে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রায় ঘোষণার পর সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে তাঁর নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভে নামেন এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অবরোধের সুনির্দিষ্ট স্থান, সময় এবং কতক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল—এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ফ্লাইট ধরতে না পারার আশঙ্কা: আটকে পড়া যাত্রীদের স্বজনদের দাবি, মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, ফেনী ও নোয়াখালীর বহু প্রবাসীর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট রয়েছে। মহাসড়ক অবরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।
প্রবাসীদের অনেকেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছেন। নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করলে কারও কারও কর্মস্থলে সময়মতো যোগদান সম্ভব হবে না। এতে চাকরি হারানো কিংবা নিয়োগকর্তার শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্বজনেরা।
একই সঙ্গে ফ্লাইট মিস হলে নতুন করে টিকিট কাটতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপগামী যাত্রীদের নতুন টিকিট কিনতে এক লাখ টাকা বা তারও বেশি খরচ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এক প্রবাসীর স্বজন বলেন, “একজন প্রবাসীর সঙ্গে পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের কষ্টের টাকা দিয়ে টিকিট কেনা হয়েছে। এখন রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ফ্লাইট মিস হলে শুধু একজন মানুষ নয়, পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
‘
আন্দোলন চলুক, জরুরি গাড়ির পথ খোলা রাখুন’
মহাসড়কে আটকে পড়া যাত্রী ও তাঁদের স্বজনেরা আন্দোলনকারীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে; কিন্তু সেই কর্মসূচির কারণে অসুস্থ রোগী, অ্যাম্বুলেন্স, বিদেশগামী প্রবাসী এবং জরুরি কাজে যাতায়াতকারী মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ যেন বিপন্ন না হয়।
তাঁরা প্রশাসন ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, আন্দোলন অব্যাহত থাকলেও অন্তত অ্যাম্বুলেন্স এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীবাহী গাড়ির জন্য একটি জরুরি করিডর তৈরি করা প্রয়োজন।
এক যাত্রীর ভাষ্য, “আপনারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করুন, কিন্তু হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিমানবন্দরগামী প্রবাসীদের গাড়িগুলো যেতে দিন। একটি ফ্লাইট মিস হওয়া মানে অনেক ক্ষেত্রে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়া।”
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন আটকে পড়া যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় জরুরি সেবার গাড়ি ও বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।