স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আট মাস বয়সী এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশুর মায়ের পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে উল্টো তার মা শ্রাবন্তী আক্তারকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্দোষ মায়ের মুক্তি, সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী গ্রামের খাদেম আলী ও হুরেজা বেগমের ছেলে মো. হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গে জামালপুর পৌর এলাকার কম্পপুর গ্রামের মুনতাজ আলী ও মালেছা বেগমের মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তারের (২১) ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
শ্রাবন্তীর পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় নগদ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, একটি স্বর্ণের আংটি এবং সংসারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেওয়া হয়।
বিয়ের পর শ্রাবন্তী জানতে পারেন, তার স্বামী বেকার এবং মাদকাসক্ত। এরপর থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিশ হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে বেশিরভাগ সময় তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করতেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শ্রাবন্তী গর্ভবতী হন। তখন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে তিনি এতে রাজি না হওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে নিরাপদে সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং প্রায় আট মাস আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
শিশুটির নানা-নানির দাবি, জন্মের পর শিশুকে দেখতে কিংবা খোঁজ নিতে তার বাবা বা দাদা-দাদির পক্ষ থেকে কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে হুমায়ুন জোরপূর্বক শ্রাবন্তী ও তার শিশুপুত্রকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর পরিকল্পিতভাবে শ্রাবন্তীকে আলাদা করে রাখা হয় এবং ওই সময় তার আট মাস বয়সী শিশুপুত্রকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনায় শ্রাবন্তীর পরিবারের আরও দাবি, হত্যাকাণ্ডের দায় শিশুটির মায়ের ওপর চাপিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকি ভয়ভীতি ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে মেলান্দহ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২৯, তারিখ: ২৮ জুন ২০২৬) দায়ের করা হয়, যেখানে শ্রাবন্তীকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর শ্রাবন্তীর বাবার বাড়ির এলাকার শত শত মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দোষ হলে শ্রাবন্তী আক্তারকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন আহমেদ ও তার পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষ।