হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পবিত্র কোরআন শেখার আশায় ঘর ছেড়েছিল ৯ বছরের শিশু সোনিয়া আক্তার। বাবা-মায়ের কোল খালি করে সে থাকত মাদ্রাসার আবাসে। কিন্তু একটি নির্মম দুপুর মুহূর্তেই কেড়ে নিল সেই নিষ্পাপ প্রাণ, স্তব্ধ করে দিল একটি পরিবারের সব আনন্দ। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে সোনিয়ার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের কাউন্সিল বাজার লাইটিং ব্রিজ-সংলগ্ন ‘কাউন্সিল মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে ঘটে এই বুকফাটা দুর্ঘটনা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে দিনটি শুরু হয়েছিল সোনিয়ার। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে তীব্র গরম থেকে নিস্তার পেতে সোনিয়াসহ কয়েকজন সহপাঠী মাদ্রাসার ঠিক পাশেই বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর হওয়া একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তটি যে এত দ্রুত বিষাদে রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সাঁতার না জানা ছোট্ট সোনিয়া হঠাৎ গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। চোখের সামনে সহপাঠীকে হাবুডুবু খেতে দেখে ভয়ে চিৎকার শুরু করে অন্য শিশুরা।

তাদের চিৎকার শুনে মাদ্রাসার শিক্ষকেরা ছুটে আসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুকুরের অথৈ পানি থেকে সোনিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। সবাইকে কাঁদিয়ে ততক্ষণে না-ফেরার দেশে চলে গেছে ফুটফুটে শিশুটি। ঘটনাস্থলেই তার চিরবিদায় ঘটে। নিহত সোনিয়া আক্তার পার্শ্ববর্তী হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের চৌরঙ্গী এলাকার সোহেল রানার মেয়ে। সে দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছিল। মেয়ের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুর খবর যখন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন কান্নার রোলে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে উপস্থিত প্রতিবেশীদের চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। সহপাঠীরা তাদের প্রিয় খেলার সাথিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান:"এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।"