মোহাম্মদ মাসুদ
চট্টগ্রাম মহানগরীতে দিনে দুপুরে চাঁদাবাজি ইস্যুতে চাঞ্চল্যকর ভয়াবহ তাণ্ডবে সন্ত্রাসী হামলাকান্ডে তোলপাড় এলাকা সহ দেশজুড়ে। যার কেন্দ্রবিন্দু বড় সাজ্জাতের অনুসারী শীর্ষ আলোচিত নানা অভিযোগ ও অপরাধে ইস্যুতে ডেভিড ইমনের চাঁদার দাবি ইস্যুতে ফোনালাপ তথ্য ফাঁস। ফোনালাপ রেকর্ড ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াসহ গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। চাঁদা দাবির পর ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ০৮ (আট) আসামীকে সিএমপি চকবাজার থানা ও একাধিক চৌকশ টিমসহ র্যাবের যৌৎ অভিযানে গ্রেফতার। অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত। অভিযুক্ত ডেভিড ইমন উক্ত বিষয়ে গনমাধ্যমে মুখ খুলেছে, ঘটনার সাথে সে কোনভাবেই জড়িত নয় বলে দাবি করে নাটকীয় গল্পকথায় ঘটনার সাজানো বলে দাবি করেছে। ঘটনার ভয়াভহতায় আতঙ্কে উদ্বিগ্ন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মহল ও নগরবাসী সকলের নজর প্রশাসনের দিকে।
১৪ জুলাই, রাত ব্যাপী অভিযানে পুলিশ কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলীর নির্দেশনায় সিএমপির একাধিক চৌকশ টিম, চকবাজার থানার টিম এবং র্যাব- ৭ কর্তৃক
মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে ৮ জন আসামিকে আটক করা হয়।
মামলার ঘটনায় সনাক্তকৃত আসামী হলেন ওয়াজেদিয়া বায়েজিদের পিতা- মৃত মোঃ সামছু মিয়া প্রঃ সামছু সওদাগর ছেলে ১। মোঃ ইউনুস (৪১)মোমিনবাগ,
পাঁচলাইশের ইব্রাহিমের ছেলে ২। ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১),, শান্তিনগর বগারবিল বাকলিয়ার ইউসুফ হোসেন সরকারের ছেলে ৩। আকবর হোসেন (২৪), পশ্চিম মাদারবাড়ী, সদরঘাটের মোঃ জাহাঙ্গির মিয়ার ছেলে ৪। মোঃ সুমন (২৭), মাস্টারপুল বৌ বাজার , বাকলিয়ার পিতা- আমির হোসেনেরন ছেলে ৫। মোঃ মনির প্রকাশ কেহেরমান (৩৮), বগারবিল, পোড়াকলোনী, থানা- চকবাজারের মফিজ মিয়ার ছেলে ৬। মোঃ গিয়াস উদ্দিন (২১), শান্তিনগর
বগারবিল, বাকলিয়ার মৃত বেনা মিয়া প্রকাশ টেনা মাঝির ছেলে ৭। মোঃ নয়ন (২০),, পশ্চিম বাকলিয়া, বাকলিয়ার মোঃ আবদুস ছাত্তারের ছেলে ৮। মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ প্রকাশ ফরহাদ (২৮)।
সিএমপির তথ্য মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে আসা "ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)" নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে গত ১১জুলাই, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে নিজেকে “ডেবিড ইমন” পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
একপর্যায়ে তারা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর নিকট এককালীন ২,০০,০০,০০০/- (দুই কোটি) টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩জুলাই, দুপুরে বাকলিয়া এক্সেস রোডস্থ মরিয়ম হাইটস ভবন অফিসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে 30/40 জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে।
সন্ত্রাসীরা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনে অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টটার, ফিঙ্গার মেশিন, আসবাবপত্র, গ্লাসের দরজা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ভাঙচুর করে। এতে অনুমানিক ১৫,০০,০০০/- (পনেরো লক্ষ) টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়াও ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪৭,০০০/- (সাতচল্লিশ হাজার) টাকা, ৩ট অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানেরপরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধ ব্যাগে কর্মচারীদের বেতনের আনুমানিক ৩৫,০০,০০০/- (পঁয়ত্রিশ লক্ষ) টাকা নিয়ে যায়।
(মামলা নং-০৭, তারিখ-১৩/৭/২৬ ইং)

উক্ত বিষয়ের ঘটনার পেছনে অভিযুক্ত ডেভিড ইমন গনমাধ্যমে মুখ খুলেছে, তার দাবি সাজানো ঘটনার সাথে সে কোনভাবেই জড়িত নয় বলে জানান। উক্ত বিষয়ের ঘটনার আড়ালে কে বা কারা জড়ত তা বিস্তারিত বর্ণনা দেন। যা আবারো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত হয়। সে আরও দাবি করে, সে সাধারণ নিরীহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলেছেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পরিকল্পিতভাবে নাটকীয় গল্পকথায় ঘটনায় সাজানো হয়েছে। সে মুঠোফোনে কথা বলেছে সত্য, তবে বক্তব্যটি তার পুরোপুরি নয়। কাঠসাট করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আসামী ১। মোঃ ইউনুস (৪১) এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মানবপাচার, মাদক, ছিনতাইয়ের মোট ০৫টি মামলা, ২। ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১) এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, মারামারি, চোরাচালান, দ্রুত বিচার আইনে মোট ১২টি মামলা, ৩। আকবর হোসেন (২৪) এর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি, সন্ত্রাস দমন ও মারামারির মোট ০৬টি মামলা, ৪। মোঃ সুমন (২৭), এর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট ০৬টি মামলা, ৫। মোঃ মনির প্রকাশ কেহেরমান (৩৮) এর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মারামারির মোট 07টি মামলা, ৬। মোঃ নয়ন (২০) এর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির মোট 08 টি মামলা তথ্য পাওয়া যায়। বিঃদ্রঃ একজন আসামীকে নিয়ে অভিযান চলমান থাকায় তার ছবি প্রকাশ করা সম্ভব হলো না।
উল্লেখ্য : সকলের অপেক্ষা নজর প্রশাসনের দিকে। দিনের দুপুরের ভয়াবহ হামলায় প্রশাসনের সক্রিয়তার ইস্যুতে নগরবাসী ও জনমনে উদ্বেগ ও নানা গুঞ্জন সমালোচনা সৃষ্টি হয়। আসামিদের গ্রেফতারে জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশী কার্যকরী সক্রিয় কার্যক্রমের প্রতিবেদনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি। ঘটনার পেছনের ঘটনা অভিযুক্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ভুক্তভোগী ও জনসাধারণ।