মোহাম্মদ মাসুদ
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম অন্যতম বর্বর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা কাণ্ড ইতিহাসে ভয়াবহতায় স্মরণকালের স্মরণীয় কালো ইতিহাস। উক্ত হত্যা মামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে আটক করার পর আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আটকের বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গতকাল রাতে মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়। এই বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একাধিক সেনা কর্মকর্তাকে দণ্ডিত করা হয়। তবে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
কীভাবে আটক হলেন? : এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গোপন তথ্য, দীর্ঘদিনের নজরদারি এবং গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তিনি ঠিক কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন, কীভাবে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় বা অভিযানের বিস্তারিত কৌশল সম্পর্কে ডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
এতদিন কেন ধরা পড়েননি?: বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে পরিচয় গোপন রাখা, বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন এবং সীমিত তথ্যপ্রাপ্তির কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অতীতের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে তিনি দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন এবং ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে এসব তথ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে সরকারি তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া: আটকের পর তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য : ঘটনাটি ৪৫ বছর ধরে আলোচিত একটি হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আটকের নেপথ্যের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং বা বিবৃতির অপেক্ষায় দেশবাসী সহ সারা বিশ্ববাসী।