হামিদ সরকার নীলফামারী
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ শিক্ষক সমাজ। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর। অথচ সেই শিক্ষক সমাজের মধ্যেই যখন ভূঁয়া সনদ ব্যবহার করে, তখন তা শুধু একটি প্রশাসনিক অনিয়ম নয় বরং গোটা জাতী শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গভীর হুমকির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ভূয়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদধারী শিক্ষকদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তালিকায় দেশের মোট ২২৯ জন শিক্ষকের নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদ ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য টাকার পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ন্যায় নীলফামারী জেলায় মোট ১৪ জন শিক্ষকের নাম এসেছে। এর মধ্যে নীলফামারী সদর উপজেলায় ৫ জন, জলঢাকা উপজেলায় ৫ জন,ডোমার উপজেলায় ৩ জন এবং ডিমলা উপজেলায় ১ জন শিক্ষক রয়েছেন। অধিদপ্তরের প্রকাশিত কাগজপত্রে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদের ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আদায়যোগ্য অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এই সনদগুলো বিভিন্ন সময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে কি না সেই প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, এমপিওভুক্তি কিংবা অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি সঠিক যাচাই প্রক্রিয়া কার্যকর থাকত, তাহলে হয়তো এ ধরনের অনিয়ম এত বড় আকার ধারণ করত না।
নীলফামারী জেলায় এসব ভূয়া সনদধারী শিক্ষকের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ জেলার শিক্ষাঙ্গনেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষকদের নাম প্রকাশ পাওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেন, তাদের বিরুদ্ধেই যদি ভূয়া সনদের অভিযোগ ওঠে, তাহলে শিক্ষার্থীরা কী শিক্ষা গ্রহণ করবে ?
তবে অভিযোগ প্রমাণের পূর্বেই কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়। প্রশাসনিক তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়ার