মোঃ মামুন হোসাইন স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মোখলেছুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাসির উদ্দিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে একই পদে একই স্থানে কর্মরত থেকে স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের সম্পৃক্ত করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় মদনপুরা ও কেশবপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০টি প্রকল্প নিজের ও আত্মীয়দের নামে বেনামে নিয়ন্ত্রণ করছেন নাসির উদ্দিন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া উপজেলা কমপে¬ক্স সংলগ্ন পুকুরে মাছ ধরার টিকিট বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও উলে¬খ করা হয়, সাবেক এক ইউএনওর সময় খাস জমি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন নাসির উদ্দিন এবং এসব কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নাসির উদ্দিন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে পটুয়াখালী শহরের তিতাস মোড়ে একটি ফ্ল্যাট, বরিশালে বাড়ি এবং বাউফলের নাজিরপুর এলাকায় জমি ক্রয়ের তথ্য অভিযোগে উলে¬খ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকসহ সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বলেন, আমার উপর যে অভিযোগ আনা হয়েছে এগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা,ভিত্তিহীন,বানোআট। একটি মহল আমাকে হয়রানী করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা,সসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভিযুক্ত নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।