সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল:
দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামালপুরে ৭ দফা দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জামালপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, জামালপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আরজু আকন্দ। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ উদ্দিন। এতে জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলা থেকে আগত দলিল লেখকরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা দলিল লেখকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মানী বৃদ্ধি এবং পেশার আধুনিকায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে উত্থাপিত ৭ দফা দাবিগুলো হলো—
১. দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না।
২. প্রতি দলিলের সম্মানী ভাতা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতীত অন্য কেউ দলিল মুসাবিদা করতে পারবেন না এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করতে পারবেন না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
৪. থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতীত অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
৫. থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে।
৬. যেহেতু পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়, সেহেতু দলিল লেখকদের পেশাগত কারণে দলিল লেখক/মুসাবিদাকারক হিসেবে আসামি করা যাবে না।
৭. দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জমি-জমা সংক্রান্ত দলিল প্রস্তুত ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাই আধুনিকায়নের নামে তাদের পেশাগত অধিকার ও জীবিকার ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।