মসিউর রহমান ( পটুয়াখালী) জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার বনানী সড়ক ৯ নম্বর ওয়াডে জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মো.রাসেল খলিফা (৩১) নামের এক ব্যক্তি এ মামলা করেছেন।
লিখিত অভিযোগে মো. সেকান্দার আলী দেওয়ান (৫৫) বলেন, সোহাগ দেওয়ান ‘ গংদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দীর্ঘ বছর পর্যন্ত ভুগছি । আদালতে তাদের বিরুদ্দে মামলা চলমান। পৈত্রিক ও ক্রয় সূত্রে কিছু জমি থাকায় বিভিন্ন সময়ে সেই জমি দখলের পাঁয়তারা করেন তারা। বাধা দিলে বা আইনের আশ্রয় নিলে খুন জখম করার হুমকি দেন। গ্রামের জমি দেখতে গেলে কয়েক দফায় আক্রমণের চেষ্টাও করেছেন তারা। এ বিষয়ে গলাচিপা থানায় বেশ কয়েকবার বসা হয়েছে।’ সোহাগ দেওয়ান গংদের কাজই হচ্ছে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। আজ তাদের জন্য আমরা বিপদে। কামাল দেওয়ান (৩৫) বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আমরা দীর্ঘ বছর ধরে ভোগ দখল করে খাচ্ছি সোহাগ দেওয়ান গংদের অত্যাচার আমরা অতিষ্ঠ। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে । জমা জমি ভোগ দখল করে আসছি। নানাভাবে আমাদের পরিবারকে হুমকি দেন। মো.আনোয়ার দেওয়ান (৩৭) বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ১২ ই সেপ্টেম্বর সন্ধা অনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে কলেজের সামনে মোশারেফ ভাইয়ের বিকাশের দোকানে সামনে আমাকে সোহাগ দেওয়ান, রাসেল খলিফা,রহমান দেওয়ান,রব্বানি ও কুদ্দুসসহ আরো নাম না জানা অনেকে আমাকে ধাওয়া দিয়ে মারধর করে। আমাকে বাঁচাতে রাসেল দেওয়ান আমার সামনে দাঁড়ায় আমি ওর সহযোগিতায় মোশারফ এর দোকানে ঢুকে পরি মোশারফ ভাই দোকানের শাটার আটকে দেয়। রাসেল দেওয়ানকে ওরা মারধর করে এতে রাসেল দেওনের মাথা ফেটে যায়।শরীরের বিভিন্ন অংশে কামরের চিহ্ন পাওয়া যায়। তিনি গুরুতর আহত হন।গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় রাসেল দেওয়ানকে এলাকাবাসী হাসপাতালে ভর্তি করেন। মো.মিজানুর দেওয়ান (৩৮) বলেন, গুরুতর আহত রাসেল দেওয়ানকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৩ ই সেপ্টেম্বর সকালে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে ঐ কলেজ পাড়ার কামাল মাস্টার কোচিং সেন্টারে বসে আলাউদ্দিন খলিফা, হানিফ খলিফা, সাবেক কাউন্সিলর সাহেব আলী মাতুব্বর সহ আরও নাম না জানা অনেকের সহযোগিতায় সালিশ বৈঠকে বসেন। এতে দুপক্ষ রাসেল দেওয়ান, সোহাগ দেওয়ান, রাসেল খলিফার বিষয়টি সমাধান করেন। রাসেল দেওয়ানকে সালিশির মাধ্যমে চিকিৎসা বাবদ ৭০০০ টাকা দিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, ওই সালিশ বৈঠকে রাজিব খলিফা বাড়ির নিজ গাছের ডাল কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে হাত ভেঙে যায় এই বিষয়টি খোলামেলা আলোচনা হয় বলে তিনি জানান। মো.ইব্রাহিম দেওয়ান (৩৪) বলেন,আমি একটি স্কুলে জব করি আমি বরগুনায় থাকি ঈদ কোরবানি ছাড়া বাড়িতে যাই না। পূর্ব শত্রুতার জেরে ভাই ও বাবার সাথে আমাকে মামলায় আসামি করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই। পথচারী লোকমান বলেন, আনোয়ার দেওয়ানকে মারধর করা অবস্থায় রাসেল দেওয়ান সামনে পড়লে রাসেল দেওয়ানকে সোহাগ দেওয়ান ও রাসেল খলিফা মারধর করে বলে তিনি জানান। আহত রাসেল দেওয়ান বলেন, আনোয়ার দেওয়ানকে সোহাগ দেওয়ান ও রাসেল খলিফা সহ আরো নাম না জানা অনেক লোক মারধর করায় আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ার দেওয়ানকে সেভ করি। পরে ওরা আমাকে মারধর করে। পরের দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সালিশ বসা হয়। আমাকে ওষুধ খাওয়া বাবদ ৭০০০ টাকা দেয়া হয়। তাদেরকে কেন মামলা দিয়েছে আমি সেটা জানি না। প্রতিপক্ষ সোহাগ দেওয়ানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আহত রাজিব খলিফা বলেন, আমি আহত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। কারা তাকে মেরেছে জানতে চাইলে তিনি তাদের নাম বলেন। রাজিব খলিফার বড় ভাই রাসেল খলিফা বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ৩৫ /২৬। এ বিষয়ে রাসেল খলিফার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার ভাইকে মারধর করায় আমি মামলা করেছি। এ বিষয় নিয়ে শালিশ আালা উদ্দীন খলিফা বলেন, রাসেল দেওয়ান আহত হওয়ায় চিকিৎসা বাবত প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৭০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। গলাচিপা থানার এস আই মো.রাসেদুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল স্থল পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয় নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, প্রত্যেকটা রোগীর সেবা দেওয়াই আমাদের কাম্য, তাকে আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি, তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিব।