হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
যে বিদ্যালয়ের আঙিনায় কেটেছে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের প্রতিটি সকাল-দুপুর, সেই প্রিয় প্রাঙ্গণ ছেড়ে অবশেষে বিদায় নিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল কেন্দ্রীয় হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু শাহানশাহ ইকবাল। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অনন্য অবদান রেখে অবসরে যাওয়ার এই দিনটি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পরিণত হয় হাসি-কান্নায় মেশানো এক স্মরণীয় উৎসবে। বর্ণাঢ্য আয়োজনের এই বিদায় অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের ভিড়ে। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন আহমেদ। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রভাষক প্রশান্ত বসাক।
বক্তারা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার ফিরে যান বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা মুহূর্তে। তাঁরা বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তারা তাঁর অবসর-পরবর্তী জীবনের সুখ, শান্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সভা শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় প্রিয় এই শিক্ষকের হাতে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহম্মেদ হোসেন বিপ্লব এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন, মাহমুদুল নবী পান্না ও খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল মজুমদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, নবনির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির, সাবেক ভিপি রবিউল ইসলাম এবং অভিভাবক সিরাজুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের প্রাত্তন শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান শেষে প্রিয় শিক্ষককে সুসজ্জিত, ফুলশোভিত রাজকীয় একটি গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভালোবাসার মিছিলে সম্মানের সঙ্গে তাঁকে পৌঁছে দেওয়া হয় নিজ বাসভবনে। প্রিয় শিক্ষকের প্রস্থানের মুহূর্তে অনেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীকে অশ্রুসজল হতে দেখা যায়। কারও চোখে জল, কারও গলায় অব্যক্ত কান্না, আর সবার হৃদয়ে একটাই কথা, শিক্ষকের এই বিদায় শুধু একজন মানুষের বিদায় নয়, বিদ্যালয়ের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। তবে যে আলো তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা রয়ে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।