মোহাম্মদ মাসুদ
পূর্বাভাসভিত্তিক দুর্যোগের আগাম পদক্ষেপে ও ব্যবস্থাপনায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে দুর্যোগের আগে সহায়তা বাস্তব কেন্দ্রিক দিকনির্দেশনা পরামর্শে ইপসার পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা ধারাবাহিক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রামে বিজিডি এইচ এফ- এ্যান্টিসিপেটরি এ্যাকশন ট্রিগার বেইজড পাইলট প্রজেক্ট -২০২৬ আওতায় ‘ অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন-ইপসা এ কর্মশালার আয়োজন করে।
নিরাপদ জানমালের রক্ষায় দুর্যোগের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সময়মতো আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি কমানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকল্পের উপকারভোগী, নারী উদ্যোক্তা, স্কুলভিত্তিক MET Club-এর সদস্য এবং ওয়াইপিএসএ ও সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষণীয় বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভূমিধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম কার্যক্রম আরও কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা।

কর্মশূলার কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইপসার প্রজেক্ট অফিসার আতাউল হাকিম। স্বাগত বক্তব্য সেভ দ্য চিলড্রেন এর সিনিয়র অফিসার সংস্থাটির সিনিয়র অফিসার–অ্যাডভোকেসি মো. আখফারুজ্জামান রুবেল। পরে প্রকল্পের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন-অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন নলেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার ওয়াজিহা ফাইজা। সামগ্রিকভাবে ইপসার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও এণ্টিসিপেটরি এ্যাকশন কার্যক্রম তুলে ধরেন ইপসার আরবান রেজিলিয়েন্স ফোকাল সানজিদা আক্তার।
কর্মশালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি প্রকৃত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে সহায়তার আওতায় আনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী শনাক্তকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আব্দুর রহমান খান, চট্টগ্রামের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান; পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উর্মি সরকার, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. রাশিক আহসান; মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান; জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সিনিয়র অফিসার প্রকৌশলী মো. গোলাম মোর্শেদ; মেট্রো প্রাণিসম্পদ দপ্তর, কোতোয়ালীর ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পতেঙ্গা মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী রানী মিত্র; বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান; ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আগ্রাবাদের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর উদয়ন চাকমা , ফিরোজ শাহ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মাঈনুদ্দীন, চসিক ৭নং ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।
এ ছাড়া প্রকল্পের কমন বেনিফিশিয়ারি ডাটাবেজ থেকে নির্বাচিত দুজন উপকারভোগী, দুজন নারী উদ্যোক্তা এবং চট্টগ্রাম ও বাঁশখালীর স্কুলভিত্তিক আবহাওয়া ক্লাব-এর চারজন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের মাধ্যমে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিধসের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নির্ধারিত ট্রিগার সক্রিয় হওয়ার পর বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর, কালীপুর, পুকুরিয়া ও বৈলছড়ি ইউনিয়নে প্রকল্পটির আওতায় ৪২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে পরিবারপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩০ জন নারী উদ্যোক্তাকে শর্তযুক্ত নগদ সহায়তা এবং ৩৯০টি পরিবারকে শর্তহীন নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সহায়তা বিতরণের পর উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা, সহায়তার ব্যবহার ও প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়নে পোস্ট ডিস্ট্রিবিউশন মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এবং আগাম সহায়তার প্রভাব তুলে ধরতে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করা হয়।
কর্মশালায় পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার নির্বাচন, নগদ সহায়তা বিতরণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতি, স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ততা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়সহ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
অংশীজনদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দুর্যোগের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সময়োপযোগী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার এবং পূর্বাভাসভিত্তিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে এ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।