গাজীপুর প্রতিনিধি:
প্রবাসে দিনরাত পরিশ্রম করে দেশে স্বজনদের জন্য একটু নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন বুনেছিলেন কাতারপ্রবাসী রিনা বেগম। কিন্তু দেশে তাঁর পরিবারের ওপর নেমে এসেছে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, ক্রমাগত হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের অরুণ গ্রামের বইল্লা বাড়ি ও করিমের মিল-সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রবাসীর পরিবারের ওপর অত্যাচার এবং পরবর্তীতে এ ঘটনা কাভার করতে গিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জমি নিয়ে বিরোধ ও স্থানীয় সালিশ ব্যর্থ ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জোসনা, সুমি ও জাকির হোসেন সহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে প্রবাসীর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
উপায়ান্তর না পেয়ে রিনা বেগমের পরিবার কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং গাজীপুর আদালতে আইনি প্রতিকার চেয়ে মামলা করেন। বর্তমানে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি প্রবাসীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরায় দৈনিক দেশ প্রতিদিন-এর গাজীপুর জেলা ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ সিরাজুল ইসলামকে হুমকি ও গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হয়রানির খবর প্রকাশের পর অভিযুক্ত সুমি ও জোসনা মুঠোফোনে ওই সাংবাদিককে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। শুধু তা-ই নয়, সত্য প্রকাশ করায় ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় পাল্টা অভিযোগ ও আদালতে মামলা দায়ের করে হয়রানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
প্রশাসন ও পেশাজীবীদের প্রতিক্রিয়া কোনো পরিবারের ওপর হয়রানি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীকে হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের সুরক্ষায় এই হুমকির ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের আকুল আবেদন প্রবাসী রিনা বেগমের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত মহল কাপাসিয়া থানা পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কোনো পক্ষের প্রভাব বা ভয়ভীতিতে যেন ন্যায়বিচার ব্যাহত না হয়। প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে থাকা প্রবাসীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তাঁরা। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আদালতের নথিপত্রের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।