
মোহাম্মদ মাসুদ
সারা বাংলাদেশে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে চট্টগ্রামের খুন হত্যা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি অন্যায় অপরাধের আন্ডারগ্রাউন্ড অপরাধী নামে পর্দার অন্তরালে প্রকাশ্যে শীর্ষ সমালোচিত বড় সাজ্জাদ। সিএমপি’র ডিসি (উত্তর), সিএমপি, ওসি (পাঁচলাইশ) সহ পাঁচলাইশ থানার অভিযানে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ০৩ (তিন) জন সহযোগী গ্রেফতার।
১০ মার্চ,(মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমনকে গ্রেফতার ও তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চকবাজার থানা এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার (থ্রি টু বোর) ও ০৯ (নয়) রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন। ডিসি (উত্তর), সিএমপি, ওসি (পাঁচলাইশ) সহ পাঁচলাইশ থানার অভিযানে ব্রাজিলিয়ান টরাস (নাইন এম এম) পিস্তল এবং ০১টি মোটর সাইকেলসহ আসামি মনিরকে গ্রেফতার করে।
উদ্ধারকৃত অস্র মালামাল আলামতের মধ্যে রয়েছে, ক) ০১ (এক) টি বিদেশি রিভলভার (থ্রি টু বোর) ও ০৯ (নয়) রাউন্ড গুলি, খ) ০১ (এক) টি ব্রাজিলিয়ান টরাস (নাইন এম এম) পিস্তল , গ) ০১ (এক) টি এসএমজি, ০২ (দুই) টি ম্যাগাজিন এবং ৫০ (পঞ্চাশ) রাউন্ড গুলি,ঘ) ০১ (এক) টি মোটর সাইকেল।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, সিএমপির কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশনায় ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস্), ডিসি (দক্ষিণ) এবং ওসি (চকবাজার) সহ চকবাজার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আটক করা হয়।
সিএমপি তথ্যে জানা যায়, উদ্ধারকৃত রিভলভার ও গুলি সিএমপির পাহাড়তলী থানা হতে লুণ্ঠিত হয়েছিল মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ০৮ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী।
উক্ত উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা হতে লুণ্ঠিত হয়েছিল মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামির তথ্যে ভোরে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা হতে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেফতার করা হয়। সায়েমের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা হতে ০১ (এক) টি এসএমজি, ০২ (দুই) টি ম্যাগাজিন এবং ৫০ (পঞ্চাশ) রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এই অস্ত্র ও গুলি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের নিকট থেকে কিনেছে মর্মে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। আসামি মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে সর্বমোট ১০ (দশ) টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমন এর কাছ থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্য রিক্রুট সংক্রান্ত শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রত্যেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। আসামি মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী @ রিমন @ ইমন সম্প্রতি চন্দনপুরায় ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সংঘটিত গুলির ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিল। সে পর্দার অন্তরালে থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের গ্রুপ ও অস্ত্রভান্ডার নিয়ন্ত্রণসহ সকল চাঁদাবাজি এবং খুনের মুখ্য পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা উদ্ধারকৃত তিনটি অস্ত্র উক্ত ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে জানায়। বিষয়টি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের অপরাপর সহযোগীদের গ্রেফতারসহ আরো অস্ত্র গুলি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।
Leave a Reply