
প্রতিবেদক: মোঃ কাওছার মল্লিক |
ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নতুন কমিটির শীর্ষ দুই পদ— সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ছাত্রনেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। এই দৌড়ে রাজপথের সক্রিয়তা, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিপ্লবে সম্মুখ সারির ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিচারে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোঃ আদনান।
কমিটির বর্তমান প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুই বছর মেয়াদের এই কমিটির সময়সীমা গত ১ মার্চ শেষ হওয়ায় এখন নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
৫ আগস্টের বিপ্লব ও রাজপথের সংগ্রাম: সালেহ মোঃ আদনান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচিতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন।
এর আগেও রাজনৈতিক জীবনে তিনি অসংখ্যবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। ২০১২ সালে বিরোধী দলীয় আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন আদনান। দীর্ঘ সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। ২০১৮ সালের আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী প্রতিটি কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
শিক্ষাগত ও পারিবারিক ঐতিহ্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (অনার্স) সম্পন্ন করা সালেহ মোঃ আদনান একজন উচ্চ শিক্ষিত ও মার্জিত ছাত্রনেতা। তার পরিবারও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার পিতা আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা এ জেড এম সালেহ ফারুক বরগুনা জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তার মা এবং ভাই-বোনেরাও দলের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
সালেহ মোঃ আদনানের বক্তব্য: সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের লক্ষ্য ব্যক্ত করে সালেহ মোঃ আদনান বলেন:
”দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার আদর্শ ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলকে একটি মেধাবী ও সাহসী সংগঠনে রূপান্তর করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। ৫ আগস্টের বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করব এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের আদর্শ অটুট রাখতে কাজ করে যাবো।”
তৃণমূলের প্রত্যাশা: দলের দুর্দিনের কান্ডারি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান থাকায় আদনানকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ কর্মীরা। তারা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদনানের মতো ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ছাত্রদলকে আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।
Leave a Reply