
স্টাফ রিপোর্টার, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ):
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারি ইউনিয়নের অললী, কৈহালি টেক ও বেলদিয়া গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত ইচাল্লা বিলকে কেন্দ্র করে জমির মালিক ও মাছ চাষীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মৎস্য চাষ করে আসা চাষিরা এখন দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকদের কাছ থেকে নিজে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মৎস্য চাষ করে আসছিল তমিজ উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, জুয়েল, আসাদুল্লাহ, আতিকুল ইসলাম, মনজুরুল হক, তাইজুল ইসলাম ও মাসুমসহ কয়েকজন।
চাষিদের দাবি, বিলে যাদের জমি রয়েছে তাদের কাছ থেকে ১০ বছরের চুক্তিতে বিলটি ভাড়া নিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। ইতোমধ্যে চুক্তির ৭ বছর অতিক্রম হয়েছে, বাকি রয়েছে আরও ৩ বছর। কিন্তু এর মধ্যেই একটি প্রভাবশালী মহল দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিলটি দখলের পাইতারা চালাচ্ছে।
মৎস্য চাষীরা গণমাধ্যমকে জানাই, অললি ও বেলদিয়া গ্রামের বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে একটি পক্ষ বর্তমান চাষিদের বিল থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ।আর যদি তারা বিল ত্যাগ না করে তাহলে প্রতি সিজনে তাদেরকে দিতে হবে ৫ লাখ টাকা চাঁদা । অন্যথায় তাদের বিলে মাছ চাষ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গত বেশ কিছুদিন যাবৎ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিল দখলের চেষ্টা চলছে বলেও গণমাধ্যমের কাছে মৎস্য চাষিরা অভিযোগ জানিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—কামাল খান , কাসেম ঢালী, নিজাম মাস্টার ও সোবাহান।
এ বিষয়ে নিগুয়ারি ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা ইয়াছিন বলেন, “যারা আগে মাছ চাষ করেছে তারা আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক। আর যারা এখন বিল দখল ও মাছ চাষ করতে চাচ্ছে তারা বিএনপির মিটিং-মিছিলে সক্রিয় ছিল। তাই তারা কিছু সুবিধা পেতেই পারে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পাগলা থানার আওতাধীন নিগুয়ারী বিট পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, দখলচেষ্টাকারীদের অনেকেরই ওই বিলে কোনো জমি নেই। তারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা চান, যারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ চুক্তির ভিত্তিতে মাছ চাষ করে আসছেন, তারাই যেন বিলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন।
Leave a Reply