
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটকের ঘটনাকে ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন দাবি করেছেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, বেলাল উদ্দিন প্রধানের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঘটনা ঘটানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তাদের ধারণা। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ কম দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকার ঋণ মওকুফের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে টাকা বিতরণের সময় নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু সেসব বিষয় আলোচনায় আসছে না। অথচ জামায়াতের আমির ব্যবসায়িক অর্থ নিয়ে ফেরার সময় তাকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, তাকে ঢাকার বিমানবন্দরে আটক করা হয়নি, কিন্তু সৈয়দপুরে এসে আটক করা হয়েছে—যা তাদের মতে একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের অংশ।
এদিকে বেলাল উদ্দিন প্রধানের পরিবারের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়িক কাজে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস ও বুটিক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঢাকায় বকেয়া আদায় ও অগ্রিম অর্ডারের অর্থ সংগ্রহ শেষে তিনি ফিরছিলেন। অতীতেও এ ধরনের বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পরিবারের। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যাতায়াত ও অর্থ লেনদেন স্বাভাবিক বিষয়। একটি মহল সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে।
Leave a Reply