
হুমায়ুন কবির (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রহর গোনার সেই ক্ষণ—রাত ১২টা ১ মিনিট। চারদিকে নীরবতা, শীতল হাওয়ায় ভেসে আসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের সুর। কিন্তু আলোহীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে তৈরি হয় ভিন্ন এক দৃশ্য। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়েই পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে হয় রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ মাঠের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল)স্নেহাশীষ দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাংবাদিকেরা। তবে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সামনে আসে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। শহীদ মিনারে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙ-সজ্জার ঘাটতি এবং আলপনা না আঁকার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
বিএনপি নেতা মহসিন আলী ও যুবদল নেতা আকতার হোসেন বলেন, “আমরা প্রতিবছর এখানে ফুল দিতে আসি। প্রতি বছর শহীদ মিনার রং করা হয়, আলপনা আঁকা হয়, আলোকসজ্জা থাকে। কিন্তু এবার এসে দেখি বিদ্যুতের আলো নেই, রং করা হয়নি, আলপনাও আঁকা হয়নি। এটি প্রশাসনের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা ছাড়া কিছু নয়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।” অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও খাদিজা বেগম বলেন, “শহীদ মিনার পরিষ্কার করে রং করা হয়েছে। তবে এবার আলপনার কাজ করা হয়নি। আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।”
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেন, ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত প্রস্তুতি ও তদারকি প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যেখানে আবেগ আর আনুষ্ঠানিকতা মিলেমিশে একাকার হওয়ার কথা, সেখানে আলো-আঁধারির এই আয়োজনে প্রশ্ন থেকে গেছে প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
Leave a Reply