
ওসমান গনি গজারিয়া প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা অগ্নিকান্ডের লেলিহান শিখায় তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই,আগুনে নিয়ন্ত্রনে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে চাওয়া হয় গ্রামবাসীর সাহায্য,খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট প্রায় ১ঘন্টায় আগুন নির্বাপণ করেন।
গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বড় রায়পাড়া দক্ষিণ পাড়ার মাসুম,কামাল, ও দাদন বেপারীর ঘরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে,এতে ৩টি সেমি পাকা ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র,নগদ অর্থ,স্বনালংকার,মাছ ধরার জাল পুড়ে ত্রিশ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় গ্রামবাসী তাজুল ইসলাম জানান,রাত ১২টার দিকে হঠাৎ আগুন লাগার চিৎকার শুনে ঘর বাহির হয়ে দেখি পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আগুন লেগেছে,তারপরই মহল্লার মসজিদে আগুন লাগার ঘোষণা দেই,যাতে গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে পারে,প্রতিটি পরিবারই গরিব,তাদের সব পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হোসেন মিয়া জানান, আগুন লাগার সময় ঘরগুলোতে কেউ অবস্থান করছিল না। তার পুত্রবধূ বাবার বাড়িতে থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। ঘরের ভেতরে মাছ ধরার জালসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ছিল, যার মধ্যে শুধু জালের মূল্যই প্রায় এক লাখ টাকা। তাদের সন্দেহ, চুরির উদ্দেশ্যে কেউ আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত কামাল এর স্ত্রী বিলকিস আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,আমাদের এখন থাকার জায়গাও নেই,দুটো সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হবে।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপন করা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে তিনটি বসতঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়।
গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মো:ফিরোজ মিয়া বলেন,খবর পেয়ে রাত ১২:১৭মিনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণ করা হয়,অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।
বিষয়টা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:মাহমুদুল হাসান বলেন,রাতেই খবর পেয়েছি,ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে খোঁজ খবর নিতে বলা হয়েছে,আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবো।
Leave a Reply