
মোহাম্মদ মাসুদ
প্রায় ২ দশক পর ৩ দশক ধরে বসবাসকারী চট্টগ্রামের অবৈধ সম্রাজ্যের পতন। আধিপত্য মুক্ত হল প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অভিযান সফল। প্রশাসনের আধিপত্য বিস্তারে দুটি অস্থায়ী স্থাপন। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল আলিনগর অপরাধীদের অবৈধ আস্তানা ভেঙে যৌথ বাহিনী চ্যালেঞ্জিং সত্বেও সফল অভিযানে সরকার প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে অধীনে। নানা সমালোচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরকে অবশেষে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে যৌথ বাহিনী।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া বিশাল এক অভিযানের পর দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ এই সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুর একটি বিশাল ও দুর্গম এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেখানে রাষ্ট্রীয় আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। ৩ হাজারেরও বেশি সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই অভিযানে সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশপথ ও পাহাড়ি আস্তানাগুলো ঘিরে ফেলা হয়।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে (সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা অপরাধ ও অবৈধ ভূমি দখলের অবসান ঘটিয়ে পরিচালিত বড় অভিযানে নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে প্রকাশিত ও আলোচিতসাম্প্রতিক তথ্যাবলী যৌথ অভিযানে সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের ৩,২০০ জনেরও বেশি সদস্যের যৌথ বাহিনী এই অভিযান চালায়।
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার ‘ইয়াসিন বাহিনী’সহ অন্যান্য অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন করে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও র্যাবের পৃথক দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে।
অবৈধ দখল ও অস্ত্র: প্রায় ৩,১০০ একর খাস জমির ওপর অবৈধ বসতি, পাহাড় কাটা এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা: সরকার জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে উদ্ধার করে সেখানে কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ ও ইকো পার্কসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে অপরাধের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রশাসনের এই সফল অভিযানকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply