
মোহাম্মদ মাসুদ
প্রায় তিন দশক ধরে নানা প্রকল্প বরাদ্দ ও প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এখন বাস্তবতায় ভয়াবহতায় দৃশ্যমান। পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগ জনজীবন বিপর্যস্ত।
প্রকল্পে সমন্বয়হীনতা দুর্নীতি অনিয়ম অবৈধ দখল। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ নীরব। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দীর্ঘসূত্রিতায় এ দুর্ভোগ আজ গলার কাঁটা নিত্যদিনের সঙ্গী। অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের সময় নগরের নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে জনজীবন স্থবির করে দিচ্ছে।
জলবদ্ধতা নিরসনের নামের শত হাজার কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ সত্ত্বেও সমাধান হয়নি আজও। চরম দুর্ভোগ ভোগান্তি চট্টগ্রামবাসীর। বাস্তবতা নানা প্রেক্ষাপট পরিস্থিতি ও প্রশ্নবিদ্ধ দুর্নীতি অনিয়মের কারণে-অকারণে আজ মহা সংকটে চরম দুর্ভোগকে চট্টগ্রামবাসী। নিরুপায় বাস্তবতা কৃত্তিম সংকট ও প্রকৃতির কাছে। সমস্যার গভীরতা বিবেচনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও তদারকি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও কোমর পানি জনজীবন যাত্রী পরিবহন সকল কিছু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। চরম দুর্ভোগকে চট্টগ্রামবাসী।
রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার অতি ভারি বর্ষণের রূপ নেয়। সোমবার দিনভর বৃষ্টির পর রাতেও চলে মুষলধারে। সেদিন সন্ধ্যার পর নগরীর দুয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাতভর টানা ভারি বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
তিন দিনের টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগ জনজীবন। রেলপথ বিমান পথ সহ সাধারণ মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চরম ভোগান্তিতে নগরবাসীর রেকর্ড। ১২১ এলাকা জলবদ্ধতা পানি আটকে থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৭টি এলাকায় পানি জলাবদ্ধতা হচ্ছে বলে জানান খাল খনন প্রজেক্টে ৩৪ বিগ্রেড দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি আপডেট বিস্তারিত তথ্য দেন।
টানা তিন দিনের অতিভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৩০ দশমিক ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানি জমে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত।
তবে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, আগে ১২১টি পয়েন্টে জলাবদ্ধতা হলেও বর্তমানে তা মাত্র ১৭টি স্থানে নেমে এসেছে।
জলাবদ্ধতার বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে মাত্র ১৭টি এলাকায় পানি আটকে রয়েছে। নগরীর অনেক বড় এলাকায় পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার সার্বিক তথ্য:রেকর্ড বৃষ্টিপাত: পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৫৮ মি.মি. এবং আমবাগান এলাকায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
যোগাযোগ ও জনদুর্ভোগ: জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের কারণে বিভিন্ন রুটে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু স্থানে গাছ ভেঙে ও Airport Road (বিমানবন্দর সড়ক) ভেঙে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলগুলোর পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস: নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সর্বশেষ কাজ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার সাথে সারা বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ট্রেনটি ষোল শহরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া জলবায়ুর প্রতিকূলে পরিবেশ হওয়ায় চট্টগ্রামের নিয়মিত তিনটি করেছে কর্তৃপক্ষ। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট BS350 (আবুধাবি-চট্টগ্রাম) এবং এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইট G9-526 (শারজাহ-চট্টগ্রাম) ডাইভার্ট হয়ে ঢাকায় অবতরণ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে বিগত ২৩ বছরের ইতিহাসের রেকর্ড ভেঙে গত ৪৮ ঘণ্টায় অভূতপূর্ব ভারী বর্ষণ হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস ও আমবাগান আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে,
৭ই জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৮৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রে রেকর্ড করা হয় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
৫ই জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই টানা বৃষ্টিপাত ও রেকর্ড ভাঙা বর্ষণের বিস্তারিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার বিস্তারিত তথ্যনগরের মূল জলাবদ্ধ এলাকা: রেকর্ড বৃষ্টি ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি একসাথে যুক্ত হওয়ায় নগরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, হালিশহর (কে ও এল ব্লক), চান্দগাঁও, রামপুর, এবং মাদারবাড়ি বাটালি রোডসহ বিস্তীর্ণ এলাকার সড়কগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টিতে শহরের আরাকান সড়কের মৌলভী পুকুর পাড় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
যোগাযোগ ও জানমালের ক্ষতি: ভারী পানির তোড়ে পতেঙ্গা এলাকার বিমানবন্দর সড়কের একটি বাইপাস অংশ ভেঙে গেছে। বিআরটিসি ফলমুন্ডি একটি গাছ ভেঙ্গে রিস্কার উপর পড়ে অল্পের জন্য বেঁচে যায় রিক্সা চালক। লালখান বাজার এলাকায় বেশ কিছু বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। সড়কে গণপরিবহন ও সিএনজি চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ও অফিসগামীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও পরীক্ষা স্থগিত: জলাবদ্ধতার তীব্রতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সবকটি (৪৮টি) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলাসমূহের বন্যা পরিস্থিতি : শুধু চট্টগ্রাম শহরই নয়, টানা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, পটিয়ার নিচু এলাকা, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া এবং চকরিয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা ও অসংখ্য মাছের ঘের।পাহাড়ধসের সতর্কতা: অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে মারাত্মক পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে মাইকিং ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাহাড়ধস কবলিত এলাকার তোর পথচারী ও সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্র এখন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
চট্টগ্রামে রেকর্ড ৩৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, চলবে আরো কয়েকদিন। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামে মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। সড়কে রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহনের সংখ্যা দেখা গেছে খুবই কম। নগরীর কয়েকটি স্কুলের ক্লাস ও পরীক্ষা ‘বৈরী আবহাওয়ার’ কারণে স্থগিত করা হয়েছে। ভারি বর্ষণে লালখান বাজারে দুতিনটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে এবং বিমানবন্দর সড়কে একটি সড়ক ভেঙে গেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে অন্যান্য সময় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হত। গত এপ্রিলের শেষেও নগরীর প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, জিইসি, মুরাদপুর, রহমতগঞ্জ, সিরাজদ্দৌলা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়।
নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, হালিশহর কে ও এল ব্লক, রামপুর, তিন পোলের মাথা, বাটালি রোড, আরাকান সড়কের মৌলভী পুকুর পাড়, সিঅ্যান্ডবি এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধ এলাকার সংখ্যা বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাহাড় ধোয়া মাটি নেমে আসতে দেখা গেছে। এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে যাওয়া পানি সরাতে মাঠে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) একাধিক টিম। সঙ্গে সেনাবাহিনীর ২০টি দল কাজ করে যাচ্ছে।
নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরো পাঁচ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্র জানায় মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “গতকাল সকাল থেকে যে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে তা এখনো থামেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো শহর গতকাল থেকে ঘুরে দেখেছি।”
সকালে কাতালগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তিনি জলবদ্ধতার বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপের কোথাও জানান। দুপুরে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি।
সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিন জানান, প্রকল্পের অগ্রগতিতে সুপ্রিয় দায়িত্ব পালন করছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমাদের প্রকল্পের অধীনে ৩৬টি খাল আছে। এরমধ্যে হিজরা খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় মূল সড়ক থেকে রাস্তার লেবেল নিচু। সে কারণে সেখানে পানি উঠে যায়। সেখানে পানি নিষ্কাশনে পাম্প বসানো হয়েছে।” বিভিন্ন খালের মুখে যে রেগুলেটর বসানো হয়েছে, সেগুলো মনিটর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বিডিনিউজ বলেন, “চলতি মৌসুমে এটা ২৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। গত কয়েক বছরের মধ্যেও এটি সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
“এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদীগুলোর পানি বেড়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। শহরে পানি আটকে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে অত পানি দ্রুত নামা খুব কঠিন। এছাড়া জোয়ারের সময় পানি সাগরে নামতে পারে না। ভাটার সময় নামবে। আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে।”
সিডিএ এর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, “পতেঙ্গা এলাকায় ফ্লাইওভারের কাজের জন্য মূল সড়কের পাশে গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে একটি বাইপাস সড়ক করা হয়েছিল। বেশি বৃষ্টিতে বাইপাস সড়কটির শোল্ডারের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। ঠিকাদার মেরামত কাজ শুরু করেছে। সেখানে আমাদের লোকজনও আছে। নগরীর আর কোথাও ক্ষয়ক্ষতি কোনো খবর এখনো পাইনি।” সমালোচনার মুখে হিজরা খাল ও জামালখান খালের বাঁধ কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মে মাসের মধ্যে এসব বাঁধ সরিয়ে নিয়ে চলতি বর্ষা মৌসুমের জন্য খাল দুটির সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য : বিগত আমলে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অগ্রগতি তথ্যে গড়মিল অনিয়ম অসঙ্গতি প্রশ্নে জনমনে তীব্র ক্ষোভ অসন্তোষ প্রশ্ন।
Leave a Reply