
মোঃ আবদুল হামিদ সরকার নীলফামারী জেলা রিপোর্টারঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডালিয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ : তিন শিক্ষকের নিয়োগ-যোগ্যতা নিয়ে ডিআইএর প্রশ্ন, সরকারি কোষাগারে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ
যোগ্যতার সনদ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও অসংগতির চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে তিনজন সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের অনুকূলে সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলিত প্রায় ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৮০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ ও বেতন-ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন পর্যবেক্ষণ শুধু একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রশ্ন নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
ডিআইএর নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা-সংক্রান্ত নথিতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একাধিক অসংগতি চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিধি ও সরকারি বিধি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়, সরকারি অনুদান ও অর্থ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে যথাযথ স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বিদ্যালয়টির সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা কমিটির ভূমিকা নিয়েও নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রায় ৬০ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সরকারি কোষাগার থেকে কোনো শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলনের পেছনে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের বৈধতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সরকারি বিধিমালা অনুসরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি বহির্ভূত সিদ্ধান্ত বা যোগ্যতার ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে তার দায় নির্ধারণ করা।
Leave a Reply