
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নিখোঁজ চার শিক্ষার্থীকে প্রায় একদিন পর সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার ১ জুলাই সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে গোয়াইনঘাটগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
সিলেটের গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিল বলে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকেই নিখোঁজ হন তারা। এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মানবপাচারকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ৩০ জুন সকালে চার শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর তারা বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় উপজেলাজুড়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের (রাণীশংকৈল- হরিপুর) সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) স্নেহাশীষ কুমার দাস বলেন, “নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে বুধবার সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তারা প্রথমে ঢাকায় যায়। পরে সেখান থেকে সিলেটে পৌঁছে গোয়াইনঘাট যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, একটি মানবপাচারকারী চক্র তাদের প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।” বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ভিন্ন কথা বলছেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান। মুঠোফোনে তিনি জানান, ওই তিন তরুণী বুধবার বিকেলের দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কদমতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের বসার জায়গায় ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রীরা জানিয়েছে তারা সিলেটে বেড়ানোর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিল। বাড়ি থেকে বের হয়ে দিনাজপুর হয়ে সিলেটের বাসে ওঠে। এরপর দুপুরের দিকে সিলেটে এসে পৌঁছায়। তাদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। বাড়িতে পাঠানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ও তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে উদ্ধার হবার ঘটনার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এলেও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের যোগাযোগের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভনে সাড়া না দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply