
মোহাম্মদ মাসুদ
দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মেগাপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম দেখতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফর করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে সমান্তরালে গুরুত্ব,উন্নয়ন প্রকল্প থেকে পুনর্বাসন, মাতারবাড়ি মেগাপ্রকল্প পরিদর্শন ও পুনর্বাসন বন্যাদুর্গতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী জনকল্যাণ ও জনস্বার্তামূলক কাজে প্রধানমন্ত্রীর অবদান প্রশংসা জনকল্যাণ জনস্বার্থে নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অংশ নেওয়া সফর সঙ্গী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
“আমাদের নেতা বাংলাদেশের মানবিক নেতা” বলে বক্তব্য প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তাঁকে বাংলাদেশের একজন মানবিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাতারবাড়ি পাওয়ার প্লান্টের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
মাতারবাড়িতে মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা:
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
মাতারবাড়ি এলাকায় প্রস্তাবিত ও চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্রিফ করেন। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বন্দর অবকাঠামো, শিল্পায়ন এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ি অঞ্চলকে সমন্বিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক এ সময় তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এসব অবকাঠামোর সম্ভাব্য অবদান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর সরকারের গুরুত্বের বিষয়টিও সফরে প্রতিফলিত হয়।
উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে সমান্তরালে গুরুত্ব : প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া। কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ঘরের চাবি হস্তান্তর, অনুদান এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েকজনের কাছে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।
এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ, পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
উন্নয়ন প্রকল্প থেকে পুনর্বাসন—এক সফরে একাধিক কর্মসূচি : প্রধানমন্ত্রীর ৯ আগস্টের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরে উন্নয়ন ও জনকল্যাণ—দুই ধরনের কর্মসূচিই গুরুত্ব পায়। সফরের ধারাবাহিকতায়— প্রথমত,মাতারবাড়ি পাওয়ার প্লান্ট হেলিপ্যাডে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ব্রিফিং গ্রহণ;

দ্বিতীয়ত, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) আওতাধীন প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিষয়ে অবহিত হওয়া;
তৃতীয়ত, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন;
চতুর্থত, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ;
পঞ্চমত,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ত্রাণসামগ্রী বিতরণ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উন্নয়ন ও মানবিকতার সমন্বিত বার্তা : প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মেগাপ্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি সমন্বিত কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিদর্শনের পাশাপাশি বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরের মধ্য দিয়ে একদিকে জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়েছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পুনর্বাসন ও সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
Leave a Reply