
সেলিম মাহবুব,সিলেটঃ
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বাপক প্রস্তুতি নিয়েও অবশেষে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নির্বাচন না করার ঘোষনা দিলেন এড. সুফি আলম সুহেল। ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, জামায়াত নেতা এড. সুফি আলম সুহেল মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে ঘোষনা দিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা আুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামপুর ইউনিয়নবাসী ভালোবেসে দ্বিতীয়বারের মতো তাকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। ইউনিয়নবাসীর অর্পিত দায়িত্ব তিনি দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন। অনেক বাাধা-বিপত্তি উপেক্ষা ইউনিয়নের সর্ব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুষম বন্টন ও জনবান্ধব টেকসই উন্নয়ন করার প্রত্যয় নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে অন্যায়ভাবে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দু’মাস কারা ভোগের পর মুক্ত হয়ে নিজ গ্রামে এসে পৌছলে সর্বস্তরের জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন তিনি। এর পর থেকেই আরো বৃহত্তর পরিসরে অর্থাৎ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য নিজ এলাকা সহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে তার শুভাকাংখি-সমর্থকরা তাকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। উপজেলা জুড়ে তার প্রার্থীতার বিষয়টি প্রচার-প্রচারনাও শুরু করে তার শুভাকাংখি-সমর্থকরা। এক পর্যায়ে আত্মীয়-স্বজন, এলাকার মানুষ ও প্রবাসী বন্ধু-বান্ধব এবং ইউনিয়নবাসীর অকুন্ঠ সমর্থনে তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। যা গোটা উপজেলা জুড়ে আলোচনার জন্ম দয়। প্রার্থী হওয়ার সার্বিক বিষয়টি তিনি তার রাজনৈতিক সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে তাদের অবগত করেন। একই সাথে নিজ ইউনিয়নের অকুন্ঠ সমর্থন সহ উপজেলার সর্বত্র তার স্বপক্ষে একটি ভোটের সমীকরণও তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দের কাছে। এক পর্যায়ে দলীয় নেতৃবৃন্দ প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি প্রদান করেন তাকে। জেলা নেতৃবৃন্দের অনুমতির
প্রেক্ষিতে কর্মী-সমর্থক সহ যুবকরা উপজেলার তৃণমুল পর্যায়ে প্রচারনায় অংশ নেন। এর কয়েকদিন পরেই সুনামগঞ্জ জেলা মসলিসে সুরার এক বৈঠকে ছাতক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম তালুকদারের নাম ঘোষান করা হয়। বিষয়টি জেনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এর জন্য ইসলামপুর ইউনিয়নবাসী সহ যারা আমাকে নিঃস্বার্ত ভাবে সমর্থন ও উৎসাহ যুগিয়েছিলেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রেস কনফারেন্সে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান, জামায়াত নেতা আব্দুল হাই আজাদ, নজমুল হোসেন, মোহাম্মদ আলী সহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply