
সেলিম মাহবুবঃ
বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বেশ কয়েকটি প্রধান ধারার গণমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন ও আলোচনা সম্প্রচারিত হয়েছে—এসব বিষয় আমি ব্যক্তিগতভাবে নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করছি এবং উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে কিছু সংবাদ মাধ্যম বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আমজনতা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ
বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে এমন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে অযথা স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে।
বিশেষত রিপাবলিক বাংলা, Z ২৪ ঘণ্টা সহ ভারতের কয়েকটি চ্যানেলের ধারাবাহিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বাংলাদেশের একটি বড় অংশের কাছে একতরফা মনে হয়েছে। কোনো সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বাইরে থেকে প্রভাব বিস্তারমূলক বয়ান প্রচার—এটি আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রনীতির নীতিগত প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্ক সবসময় পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে সম্মান করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ক অটুট রাখতে দুই দেশের গণমাধ্যমের আরও সাবধানী, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। অন্য দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা রায় নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাষা ব্যবহার আন্তর্জাতিক আচরণবিধির পরিপন্থী।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়কে কেন্দ্র করে ভারতীয় কিছু চ্যানেলের তৎপরতা এমন ধারণা তৈরি করেছে যে তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন দিচ্ছে—যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্কেও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন ও পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি
আন্তর্জাতিক আইনে ‘নন–ইন্টারফেয়ারেন্স’ নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদমাধ্যম স্বাধীন হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সংবেদনশীলতায় প্রত্যেক দেশের সংবাদমাধ্যমের নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকে। বিচারিক সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক রায় নিয়ে বাইরের শক্তির একতরফা প্রচার দুই দেশের জনগণের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা: জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের মানুষ—কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা বিদেশি মিডিয়া নয়। আদালতের রায়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও গণআন্দোলন—সবই বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের জনগণ কাকে গ্রহণ করবে বা প্রত্যাখ্যান করবে—সেটি তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক অধিকার।
আমার পক্ষ থেকে আহ্বান
১. ভারতীয় গণমাধ্যমকে অনুরোধ—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপস্থাপনে আরও দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখুন।
২. দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন পক্ষপাতমূলক মত, বিশ্লেষণ বা মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।
৩. বাংলাদেশ–ভারত ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষায় সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখুন।
৪. বাংলাদেশের বিচারিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বাইরের কোনো চাপ–সৃষ্টিকারী বয়ান গ্রহণযোগ্য নয়।
আমি বিশ্বাস করি—দুই দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতামূলক ও সম্মানজনক সম্পর্কই কামনা করে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হলে গণমাধ্যমসহ সকল পক্ষকে সংযম, নীতি ও দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে।
Leave a Reply