
সংবাদদাতা,পীরজাদা মোঃ মাসুদ হোসেনঃ
মিরপুরে একই বাড়ি একাধিকবার বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে জমির মালিক ফিরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে। উচ্ছেদের ৭ মাস পরেও বাড়ি ফেরা হয়নি মিরপুরের এক অসহায় পরিবারের। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও উচ্ছেদের পর দখলদাররা জোরপূর্বক ভবন নির্মান করছে। জানা যায়, মিরপুরের রুপনগর আবাসিক এলাকার ১৩ নং রোডের ২৬ নং বাড়ির সাড়ে ৩ কাঠা ভূমি স্থানীয় প্রভাবশালী এ কেএম ফেরদৌসের সহায়তায় জনৈক ফিরোজা খাতুনের কাছ থেকে ২৩/০৩/১৯৯৯ ইং সালে ২৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১৭০৯ নং আমমোক্তারনামা দলিল মূলে খরিদ করেন আব্দুল মতিন বেগ। গত ২৭ এপ্রিল স্থানীয় লতিফুর রহমান গং তার মামুন টুটুল বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মরহুম আব্দুল মতিন এর সাড়ে ৩ কাঠার দোতলা বাড়িটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয় এবং মালামাল লুট করে, এতে তাতের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে জমির দাতা স্থানীয় অগ্রনী ব্যাংক কর্মকর্তা, থানার ওসি ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য গ্রহিতা মৃত আঃ মতিনের ছেলে মোঃ ইয়াছিন বেগ জানায়, পূর্বের মালিক ফিরোজা খাতুন নামে অগ্রনী ব্যাংকে ৬৪৭৬০০০ টাকা খেলাপী ঋন ছিলো, যাহা তারা অবগত ছিলোনা। খেলাপী ঋনের কারনে বাড়িটি ২০০৬ সালে নিলাম হয়ে যায়। জনৈক হোসনেয়ারা বেগম নিলাম খরিদ করে। খেলাপী ঋনের ৬৪৭৬০০০ টাকা হোসনেয়ারার নামে ভূক্তভোগী পরিবার পরিশোধ করে। ঋন পরিশোধের পর অগ্রনী ব্যাংক মিরপুর শাখা ম্যানেজার শামছুল হক বাড়ির মূল দলিলটি তাদেরকে না দিয়ে অনৈতিকভাবে সাবেক মালিক ফিরোজা বেগমকে দিয়ে দেয়। ফিরোজা খাতুন অসৎ উদ্দেশ্যে বাড়িটি প্রথমে সাইফুল ইসলাম জিয়া গং এর কাছ থেকে বায়না করে ১ কোটি টাকা নেয়, লতিফুর রহমানের কাছে তৃতীয়বারের মতো বিক্রি করে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ব্যাপারে গত ১৩ মে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনের পর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও কোন সূরাহা হয়নি। উক্ত বিষয়ে প্রতিকার ছেয়ে ইয়াছিন বেগ বাদী হয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তায়েবুর রহমান আশিক ও অফিস সহকারী একেএম শোয়েবুল আহসান এর বিরুদ্ধে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব বারাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। স্মারক নং

২৫.০০.০০০০.০৫৩.০৩১.০০৬.২০০১(অংশ-১) মূলে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিবের পক্ষ থেকে উপ-সচিব মিস সালমা আক্তার খুকী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। সাময়ীক কিছু শুনানী হলেও কোন ফলই পাচ্ছেনা ভুক্তভোগী পরিবার। ভূক্তভোগী মৃত আব্দুল মতিন বেগের স্ত্রী খাইরুন্নাহার বলেন, বাড়িটি ভেঙ্গে দেয়ার পর আমরা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছি, একই জমিনের তৃতীয়বারের মতো অবৈধ রেজিষ্ট্রি বাতিলপূর্বক আমাদেরকে ক্ষতিপূরনসহ বাড়িটি ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত লতিফুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা ভূমি আইন মেনেই জমিটি ক্রয় করেছি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মোঃ বশির গাজী বলেন, মোঃ ইয়াছিন বেগের অভিযোগের আলোকে তদন্ত চলছে, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানী হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র বিস্তারিত যাচাই করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply