
সাইফুল ইসলাম,নিজেস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শ্রীপুরে ডিভোর্সের ছয়সাত মাস পরও সাবেক স্বামীর হাত থেকে রক্ষা পেলেন না এক নারী। দিনের আলোতে, জনসম্মুখে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন মোসা. প্রিয়তা আক্তার (২৫)। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে শ্রীপুর থানাধীন ডিবিএল গার্মেন্টস সংলগ্ন মালেক মিয়ার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্রিয়তা ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার রাহেলা গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী এবং শ্রীপুরের একটি খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকারী কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুরে খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে কারখানা থেকে বের হলে প্রিয়তাকে তার সাবেক স্বামী মো. আনারুল হক ডেকে জোরপূর্বক পাশের একটি গলিতে নিয়ে যান। সেখানে ডিভোর্স, সন্তান ও পূর্বের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আনারুল হক সঙ্গে থাকা ধারালো দেশীয় চাকু দিয়ে প্রিয়তার পেট ও শরীরের
বিভিন্ন স্থানে একের পর এক আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রিয়তা। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত আনারুল হককে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। পরে প্রিয়তার ভাগ্নি ইসমা আক্তার মিতুসহ স্থানীয়রা দ্রুত তাকে শ্রীপুরের মাওনা আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে আনারুল হকের সঙ্গে প্রিয়তার ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পরও আনারুল হক বিভিন্ন সময় প্রিয়তাকে হুমকি ও মানসিক চাপ দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আনারুল হককে হেফাজতে নেয় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এক সন্তানের মায়ের এমন নির্মম মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে ডিভোর্সের পরও নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
Leave a Reply