
মোহাম্মদ মাসুদ
চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে বাঁশখালীতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি ভোটগ্রহণ নয়—এটি আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
সরকারি কর্মচারীরা কোনো ব্যক্তির গোলাম নয়। তারা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য শপথবদ্ধ। নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের পথে একটি ঐতিহাসিক ধাপ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাঁশখালী উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম আলম।
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা—সরকারের কর্মচারীরা—জেতাতে চাই পুরো বাংলাদেশকে, দেশের প্রতিটি মানুষকে।”
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জনগণের বিশ্বাস এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আস্থা আমাদের রক্ষা করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা কিংবা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা—এই বিশ্বাসঘাতকতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
এই নির্বাচন শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মায়ের বুক খালি করা সন্তানের রক্তের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ। এই বাস্তবতায় দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র গাফিলতি হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যা হবে উৎসবমুখর এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। এই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো নিরপেক্ষতা।”
সরকারি কর্মচারীদের অতীত ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের গায়ে অনেক কালি লেগেছে—সেই কালি আজ ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রমাণ করতে হবে, সরকারি কর্মচারীরা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেয় না, রাষ্ট্রের জন্য কাজও করে।”
তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, “আমাদের কি সেই সাহস আছে? মেরুদণ্ড আছে? বিবেক আছে?” এ সময় সভায় উপস্থিত সবাই সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
এরপর ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “হ্যাঁ—আমরা বিবেক বিক্রি করিনি। আমরা কোনো ব্যক্তির গোলাম নই। আমরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে চাই। আজ সেই সুযোগ আপনাদের সামনে এসেছে—এই সুযোগ গ্রহণ করতেই হবে।”
দেশের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু আজ সেগুলো দেখার সময় নেই। আজ একটাই কাজ—দেশের প্রত্যাশা পূরণ করা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং দেশের ইমেজ রক্ষা করা।”
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আবেগের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভালোবাসা দেখাতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি, দায়িত্বের প্রতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি—কোনো ব্যক্তির প্রতি নয়।”
পক্ষপাতমূলক আচরণের বিষয়ে সতর্ক করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাকে যেমন মনিটরিং করা হচ্ছে, ঠিক তেমনই সবাই মনিটরিংয়ের আওতায় আছেন। সুতরাং বি কেয়ারফুল।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ব্যাপক মোতায়েন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে। “এই ডেপ্লয়মেন্ট একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে,” বলেন তিনি।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “১২ তারিখে আমরা প্রমাণ করব—সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রকে দিতে জানে। এবার আমরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করব। ”প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হচ্ছে সেই বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণ, যেখানে আমরা, আপনারা এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ থাকবে।
Leave a Reply