
রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি |
ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় একটি পরিবারকে ঘিরে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে এখনো রয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফ নামের এক যুবক ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক সংকট ও আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে চাকরির আশ্বাসসহ বিভিন্ন অজুহাতে কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে জটিলতা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা হয়েছে বলেও জানা গেছে। একই সঙ্গে সেই সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে আরও অভিযোগ উঠেছে, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে বিভিন্ন সালিশ ও প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে নিজের অবস্থান শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, কীভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সহজেই সম্পর্ক তৈরি করে তিনি নিজের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন—তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক সম্পর্ক ঘিরেও এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের এক সদস্য পূর্বের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রেখে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এছাড়া আরও কয়েক লাখ টাকা লেনদেনের তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ বলেন, “পূর্বের ঘটনা এবং লেনদেন সম্পৃক্ত ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। আমার বোনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার একটি সন্তানও হয়েছে। আমাদের পরিবারের সব ঝামেলা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ বা ঝামেলা নেই।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ ও তথ্যগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয় বলেও মত দিয়েছেন তারা।
Leave a Reply