
সেলিম মাহবুব,ছাতকঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ২৮ নম্বর রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কালারুকা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সাজ্জাদুর রহমান।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ জুন অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সাজ্জাদুর রহমানকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করা হয়।
কিন্তু তিনি গোপনে অন্য একজনকে সভাপতির প্রস্তাব পাটিয়েছেন। এর আগে ওই ব্যক্তির সন্তানকে গোপনে বিদ্যালয়ে ভর্তি করান।
অভিযোগকারীদের দাবি, চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি-সংক্রান্ত কোনো তথ্য ছিল না। পরে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নাম সভাপতি পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, অপকর্ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ রয়েছে, যা শিক্ষা অফিসের স্মারক নং–৬০৭/২০২৪ অনুযায়ী তদন্তাধীন। এছাড়া বিদ্যালয়ে তাঁর স্বামীর সঙ্গে সংঘটিত এক বিরোধের ঘটনায় পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের পুরোনো আলমারি, সিলিং ফ্যান, বইপুস্তকসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
অভিযোগকারীদের দাবী ওই শিক্ষিকা একই গ্রামের হওয়াতে তার স্বামীর পক্ষ নিয়ে গোষ্টিগতভাবে তিনি গ্রাম্য রাজিনিতিতে জরিয়ে পড়েছেন। এছাড়া সরকারী চাকুরীর প্রভাবে তিনি গ্রামের প্রতিপক্ষ ও তাদের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচড়ন করেন।
এতে যে কোনো সময় শিক্ষা প্রতিষ্টানকে কেন্দ্র করে গ্রামে বিশৃঙ্খলা শৃষ্টির আশংকা রয়েছে। বিধায় তার বিরুদ্ধে তদন্তমূলক আইনানুগ ব্যাবস্থা ও তাকে অন্যত্র বদলি করা একান্ত জরুরী।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. নাজমা বেগম বলেন, এসব তাদের ভুল বোঝাবুঝির, আমি ব্যক্তিগতভাবে বা গোপনে কারও নাম প্রস্তাব করিনি।
শিক্ষার্থী ভর্তিও নিয়ম অনুযায়ী এবং সময়মতই করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বাকীটা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন। এছাড়া একজন সদস্যের ডাক নাম লিপি কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার যে নাম সেটা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply