
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
একজন মানুষের রাজনৈতিক উত্থান যখন নিজের জন্মভূমির গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এসে পৌঁছায়, তখন সেই আনন্দে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত হয় তার শেকড়ের মাটি। বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতিসন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঠিক এমনই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেম্বার অব কমার্স কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয় ব্যাপক আলোচনা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরটি যেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে কেবল একটি রাজনৈতিক সংবাদ নয়—নিজেদের একজন মানুষের জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় দায়িত্বে যাওয়ার সম্ভাবনার সংবাদ। তাই শহরের অলিগলি, রাজনৈতিক আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক পরিসরেও দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। নানা রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়াকে তারা রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।নেতাকর্মীদের ভাষ্য, মির্জা ফখরুলের মতো অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যাওয়ার সুযোগ পেলে তা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে থাকবে। এ সময় তারা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নন, মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন মির্জা ফখরুল। তার রাজনৈতিক পরিচয় এখন জেলার সীমানা ছাড়িয়ে দেশের মানুষের কাছেও সুপরিচিত। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। জাতীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলা আমাদের গর্বিত করেছে। রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়নের খবর সত্যিই ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনীতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের পরিচিতি নতুন করে সামনে এসেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়ে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার খবর সেই পরিচিতিকে আরও ব্যাপক পরিসরে নিয়ে এসেছে।
এদিকে আনন্দের এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে নেতাকর্মীদের মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্যেও মুখর হয়ে ওঠে শহরের বিভিন্ন এলাকা। কারও হাতে মিষ্টির প্যাকেট, কারও মুখে অভিনন্দনের কথা—সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে তাই এ দিনটি যেন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার মনোনয়নের দিন নয়; বরং নিজের জেলার একজন সন্তানের জাতীয় জীবনে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যাওয়ার সম্ভাবনায় আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দিন। মিষ্টির মিষ্টতায়, শুভেচ্ছার উষ্ণতায় আর মানুষের উচ্ছ্বাসে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও যেন একসঙ্গে বলেছে,“আমাদের মাটি, আমাদের মানুষ,জাতীয় রাজনীতির আরও বড় মঞ্চে।”
Leave a Reply