
সেলিম মাহবুব,ছাতকঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা ও মরা চেলা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এরই মধ্যে মরা চেলা নদীসহ চেলা ও মরা চেলা বালুমহালে টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে তিনটি মামলায় মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চেলা নদীর কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তথ্য উল্লেখ করে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
পাউবোর চিঠিতে ছাতক উপজেলার চৈলতার ঢালা ও সোনালী চেলা এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর, মরাগাঙ্গ ও কলাবাগান এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি বা চক্র ড্রেজার ও বালু উত্তোলনকারী যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে তথ্য পাওয়ার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
পাউবো জানিয়েছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও নদীতীরের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকা ভাঙনপ্রবণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অনুমোদিত বালুমহাল ও নির্ধারিত স্থানের বাইরে বালু উত্তোলনের ফলে সরকারি সম্পদের ক্ষতি, নদীর পরিবেশ ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় উল্লিখিত স্থানগুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হয়।
সরেজমিনে বালুমহালের বাইরে উত্তোলনের অভিযোগ
পাউবোর চিঠির পর সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সোনাপুর এলাকায় বালু উত্তোলন নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে প্রায় ৪০ একর জায়গা রয়েছে। ওই এলাকায় কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিপুলসংখ্যক লোক বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তি সেখানে বালু উত্তোলন কার্যক্রমে জড়িত। তাদের অভিযোগ, বালুমহালের বাইরে থাকা ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বালু উত্তোলন ও পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন স্থানে কথিত অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অর্থ কারা, কী কারণে এবং কার নির্দেশে আদায় করছে-তা সরেজমিনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মধ্যরাতে টাস্কফোর্স অভিযান
এদিকে ১ অক্টোবর ২০২৬ মধ্যরাতে দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা ও মরা চেলা নদী বালুমহালে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দোয়ারাবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ, সোনালী চেলা বিজিবি বিওপি, আনসার-ভিডিপি দোয়ারাবাজার এবং ছাতক নৌপুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদীর নির্ধারিত বালুমহাল ও অনুমোদিত এলাকার বাইরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে চেলা ও মরা চেলা নদীর বালুমহাল নিয়ে ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পাউবোর লিখিত চিঠি এবং সর্বশেষ টাস্কফোর্স অভিযানের পর নদীর নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
এখন পাউবোর চিঠিতে চিহ্নিত স্থানগুলোতে বালু উত্তোলনের প্রকৃত অবস্থা, সোনাপুরে বালুমহালের বাইরে থাকা কথিত ৪০ একর এলাকার অবস্থান এবং সেখানে বালু উত্তোলনের অভিযোগ কতটা সত্য—তা সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply