
হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকেরা ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল, চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।।শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার রেজা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের উপেক্ষা করে হঠাৎ কিছু মোটরসাইকেলকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহ শুরু করলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।ঘটনার প্রতিবাদে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষার্থীবাহী যানবাহন এবং দূরপাল্লার বাস—ভোগান্তির শিকার হন শত শত যাত্রী। অনেকেই অভিযোগ করেন, রাতভর সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা তেল পাননি, বরং অনিয়মের মাধ্যমে অন্যদের আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।অবরোধ চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিতেও পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ হয়নি; বরং স্থানীয় কিছু যুবক ও গ্রাহকদের মধ্যেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজিদ জানান, তেল সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Leave a Reply